নাগরিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন

রৌফবাদে বেদখল জায়গা উদ্ধার করে দেয়াল নির্মাণ করা হবে: ডিআরআরও

 নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৬-০৮-১৭ , ০৪:৫৫ পিএম

রৌফবাদে বেদখল জায়গা উদ্ধার করে দেয়াল নির্মাণ করা হবে: ডিআরআরও ছবি: নাগরিক পত্রিকা

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফবাদ এলাকার ত্রাণ ও পুনর্বাসনের বেদখল জায়গা উদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। গত ১৩ আগস্ট নাগরিক পত্রিকায় ‘‘রৌফবাদে উর্দুভাষীদের জমি ক্রয়-বিক্রিয় যেন থামছেই না’’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যেখানে উর্দুভাষীদের একটি জায়গা (হোল্ডিং নাম্বার ৬৯, ৭০, ৭১) লক্ষীপুরের বাসিন্দা শাহাদাৎ হোসেন বাহার এবং মোহাম্মদ সামশুদ্দোহা ক্রয় করে কলোনী করে অবৈধ পথে গ্যাস সংযোগ নিয়ে ভাড়া দিয়েছেন-এমন তথ্য উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন করা হয়।

ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিবেদনটি সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি গোচর হয়।

বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, নাগরিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থাসহ জায়গাটি উদ্ধার করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিআরআরও বলেন, আগে এরকম বহু অভিযাগ মৌখিক বা লিখিত আকারে পেলেও সে সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে। একইসাথে সরকারের এসব জায়গা উদ্ধারে এখন থেকে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।

নাগরিক পত্রিকাকে তিনি এ বিষয়ে আরও রিপোর্ট এবং তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে অনুরোধ করেন।

এছাড়াও তিনি বলেন, রৌফবাদে উর্দুভাষীদের জন্য এডহকের নতুন কমিটি দ্রুত গঠনে তারা কাজ করবেন। 

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, এসব জায়গা নিয়ে বিগত সময়েও মামলাগুলোর (এলএ) নাম্বার আমাদের কাছে থাকলেও কিছু নথিপত্র একটি অসাধু চক্র জেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারির সহায়তায় গায়েব করেছে। যে কারণে জেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যথাযথ কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে, ওই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বিষয়টিকে তারা অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ দ্রুত শুরু করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

নাগরিক পত্রিকার অনুসন্ধানে জানা যায়, রৌফবাদ এলাকায় সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের মন্ত্রণালয়ের ১৬ একর জায়গার মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ৪১ একর জমি বেদখল হয়ে গেছে। এসব জায়গা বিহারী উর্দুভাষীদের প্রতি পরিবারের জন্য দৈর্ঘ্য ৫০ এবং প্রস্থে ২৫ ফুট করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও তাদের মধ্যে অনেকে অন্যত্র বিক্রি করেছেন এবং মন্ত্রণালয়ের কিছু খলি জায়গা বেশ কয়েকটি কুচক্রি মহল মিলে বিভিন্ন সময়ে বহুতল ভবন থেকে শুরু করে পাকা দোকান-পাট এবং বিভিন্ন ঘরবাড়ি গড়ে তুলেছে।

বিষয়টি নিয়ে জেলা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে ফোনে পাওয়া না গেলেও স্টাফ অফিসার টু ডিসি, সহকারী কমিশনার (গোপনীয় শাখা) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসিফ জাহান সিকদার নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, জেলা প্রশাসক স্যার বিষয়টি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আরও পড়ুন:

রৌফবাদে উর্দুভাষীদের জমি ক্রয়-বিক্রিয় যেন থামছেই না