স্বপ্নের শহর লস অ্যাঞ্জেলেস: এক প্রবাসীর চোখে

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৬-০১-০৫ , ১০:২৬ এএম

স্বপ্নের শহর লস অ্যাঞ্জেলেস: এক প্রবাসীর চোখে ছবি: নাগরিক পত্রিকা

দুই বলে আমেরিকাকে স্বপ্নের দেশ। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্যালিফোর্নিয়াযা অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই রাজ্যেরই প্রাণকেন্দ্র লস অ্যাঞ্জেলেস, যাকে বলা হয় সিটি অব অ্যাঞ্জেলস। প্রায় ৫০৩ বর্গমাইল আয়তনের এই শহর শুধু আয়তনে নয়, গুরুত্বেও বিশাল।

আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

লস অ্যাঞ্জেলেসের আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শুষ্ক। বছরে দুই থেকে তিন মাস কিছুটা ঠান্ডা থাকলেও বাকি সময় আবহাওয়া বেশ স্বাভাবিক ও মনোরম। এই চমৎকার আবহাওয়ার কারণেই ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়।

সংস্কৃতি ও বিনোদনের রাজধানী

পৃথিবীর বিখ্যাত হলিউড এই লস অ্যাঞ্জেলেসেই অবস্থিত। বিশ্বখ্যাত অনেক তারকা এখানে বসবাস করেছেন বা করেনযেমন টম ক্রুজ, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, মাইকেল জে. ফক্স, নাইট রাইডার খ্যাত ডেভিড হাসেলহফসহ আরও অনেকে। সংস্কৃতি, সিনেমা ও বিনোদনের দিক থেকে এই শহরের প্রভাব বিশ্বজুড়ে।

বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সহাবস্থান

লস অ্যাঞ্জেলেসে বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষের বসবাস। এখানে ধর্ম বা বর্ণ নিয়ে প্রকাশ্য বিদ্বেষ খুব কম দেখা যায়। প্রত্যেকে নিজের ধর্ম পালন করে শান্তিপূর্ণভাবে। পারস্পরিক সম্মানবোধ শহরের সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

কর্মব্যস্ত জীবনযাপন

লস অ্যাঞ্জেলেস একটি অত্যন্ত কর্মব্যস্ত শহর। এখানকার জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো সময়ের অভাব। অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা কিংবা পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রচলিত একটি কথা আছেআপনি যদি এক সপ্তাহ কাজ না করেন, তাহলে এক মাস পিছিয়ে পড়বেন। এই কারণেই মানুষ এখানে নিরন্তর ছুটে চলে; থামার সুযোগ খুব কম।

রাজনীতি ও শৃঙ্খলা

দীর্ঘদিন লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস করেও বড় ধরনের রাজনৈতিক মিছিল, উচ্চস্বরে স্লোগান বা বিশৃঙ্খল জনসমাবেশ চোখে পড়েনি। শহরটি অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নিয়মতান্ত্রিক। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা হয় না, মানুষ একে অপরের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করে।

বর্ণবৈষম্য প্রসঙ্গে বাস্তবতা

রেসিজম বা বর্ণবৈষম্য পুরোপুরি নেইএ কথা বলা কঠিন। কিছু ক্ষেত্রে নিজ নিজ জাতিগোষ্ঠীর মানুষ পরস্পরকে অগ্রাধিকার দেয়। যেমন মেক্সিকানরা মেক্সিকানদের, কোরিয়ানরা কোরিয়ানদের সাহায্য করে। দুঃখজনক হলেও সত্য, বাঙালিরা অনেক সময় বাঙালিকেই সেভাবে সহযোগিতা করে না, করলেও তার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সামাজিক সহনশীলতা

এখানে মানুষের পোশাক, গায়ের রং, শারীরিক গঠনমোটা বা চিকন হওয়া নিয়ে কেউ তেমন মন্তব্য করে না। প্রত্যেকে নিজের মতো করে বাঁচে। কোলাহলমুক্ত, ব্যক্তিস্বাধীনতায় ভরপুর এই শহরে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাফেরা করে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে বাঙালি কমিউনিটি

লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি সুসংগঠিত বাঙালি কমিউনিটি রয়েছে, বিশেষ করে ম্যাকআর্থার পার্ক ও আশপাশের এলাকায়। এখানে অনেক বাঙালি পরিবার বসবাস করে। রয়েছে একাধিক বাঙালি গ্রোসারি স্টোর, যেখানে দেশি মাছ, মাংস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায়। এই এলাকাকে অনেকেই মজা করে লিটল বাংলাদেশ বলে থাকেন। বাংলাদেশ থেকে নতুন কেউ এলে সাধারণত এখানেই প্রথম আশ্রয় নেয়।

উপসংহার

সব মিলিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস একটি সুন্দর, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সুযোগসমৃদ্ধ শহর। কিছু সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতা থাকলেও কোলাহলমুক্ত জীবন, পারস্পরিক সম্মান ও ব্যক্তিস্বাধীনতার কারণে এই শহর অনেকের কাছেই স্বপ্নের নগরী হয়ে উঠেছে।

'মুক্তমত' বিভাগে প্রকাশিত লেখা লেখকের একান্তই নিজস্ব ।