মন্ত্রী-সচিব কমানোর পাশাপাশি মন্ত্রণালয় একীভূতের সুপারিশ

 নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২৫-০২-১০ , ১১:৪৭ এএম

মন্ত্রী-সচিব কমানোর পাশাপাশি মন্ত্রণালয় একীভূতের সুপারিশ ছবি: নাগরিক পত্রিকা

সরকারের মন্ত্রী ও সচিবের সংখ্যা কমানোর সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। একীভূত করার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে আনার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ও সচিবদের সংখ্যা কমানোর প্রস্তাবকে ইতিবাচক বললেও সংস্কার কমিশনের সুপারিশকে বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে প্রথম ধাপে রাষ্ট্রের ছয়টি খাত সংস্কারে কমিশন গঠন করে। গত ১৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে দেওয়া হয় সংবিধান, নির্বাচন, পুলিশ ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন। ৫ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে দেওয়া হয় বেশ কিছু সুপারিশ। 

আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ মেয়াদে মন্ত্রিসভার সদস্য ছিল ৪৪; এর আগের মেয়াদে ছিল ৪৯ জন। কমিশনের প্রস্তাব, মন্ত্রী হবেন সর্বোচ্চ ২৩ জন, যার মধ্যে দুজন টেকনোক্র্যাট। এ ছাড়া ১২ জন প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একে ইতিবাচক বলছেন, বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সাবেক পরিচালক এ কে এম এনামুল হক বলেন, ‘সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী মন্ত্রীদের সংখ্যা কম হলে ইন্ট্রিগেটেড ডিসিশন মেকিং ও প্ল্যানিং সহজ হবে। যা সরকারের গভর্নেন্সকে উন্নত করবে। এবং এক্ষেত্রে তথ্য-প্রযুক্তি ও এআইয়ের ব্যাপক ভূমিকা আছে।’

এদিকে, বর্তমানে সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তা ৮০ জন। এ সংখ্যা কমিয়ে ৬০ করার সুপারিশ কমিশনের। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব একজন, মুখ্য সচিব ১৭ জন এবং একাধিক বিভাগ থাকা মন্ত্রণালয়ে মুখ্য সচিব রাখার প্রস্তাবও দিয়েছে কমিশন। 

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিজিটিং ফেলো অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অধিকাংশ সুপারিশমালা দেখেছি, তাতে যা মনে হয়েছে, বাস্তবতার নিরিখে না, কাল্পনিকভাবে এসব করা হয়েছে। কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবনা প্রকাশিত হওয়ার আগেই যখন এটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল তখনই প্রশাসন ক্যাডার এবং বাকি যে ২৯টি ক্যাডার আছে তাদের মধ্যে এক ধরনের আন্দোলন-পাল্টা আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ফলে সামগ্রিকভাবে যে ধরনের প্রস্তাবনা এসেছে, তার অধিকাংশ বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।’

এছাড়া, শিল্প, বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়কে একীভূত করে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক যোগাযোগ ও সেতু এবং রেল মন্ত্রণালয় মিলিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাকে একসাথে করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশও দিয়েছে কমিশন।