জামায়াতের ৩০০ আসনেই প্রার্থী চূড়ান্ত

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৪-১২-১২ , ০৭:০৭ এএম

জামায়াতের ৩০০ আসনেই প্রার্থী চূড়ান্ত ছবি: ইন্টারনেট

অন্য দলগুলো যেখানে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সামনের নির্বাচনে জয়ী হতে তৎপর। কোনো কোনো দল যেখানে নির্বাচন নিয়ে এখনো ভাবনার মধ্যে সময় পার করছে, সেখানে এ দলটি অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে কাজকর্ম। কারো ওপর ভর করে নয়, একা নির্বাচন করতে ৩০০ আসনেই প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করেছে দলটি। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে প্রার্থীদের নামের তালিকাসহ জামায়াতের নির্বাচনী প্রস্তুতি, তাদের অর্থের উৎসসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিশদ একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান সিলেট-১, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রাজশাহী-১, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের কুমিল্লা-১১, আ ন ম শামসুল ইসলাম চট্টগ্রাম-১৫ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জামায়াতের পক্ষ থেকে এসব প্রার্থীকে নির্বাচনী প্রচারণা-গণসংযোগ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন প্রার্থীরা। জামায়াত প্রার্থীদের বায়োডাটা (জীবনবৃত্তান্ত) সংগ্রহ করার পাশাপাশি তাদের আয়ের উৎস খুঁজে বের করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচনে দলটি ‘ডামি প্রার্থী’ দিলে তাদের বিষয়েও খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। তবে প্রতিবেদনটির নথি নম্বর উল্লেখ করে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, এটি সরকারি সংস্থার প্রতিবেদন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তালিকায় থাকা একাধিক জামায়াত প্রার্থী বলেছেন, কেন্দ্র থেকে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে দিনরাত সাংগঠনিক সফর, ওয়াজ-মাহফিলসহ নানা ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের রোডম্যাপ জানানো হলে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ওই সব প্রার্থীর এলাকাবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে নানা পোস্টার, স্টিকার ও শুভেচ্ছা কার্ড দেখা গেছে।

গত ২০ নভেম্বরের ওই প্রতিবেদনে ৩০০ আসনে জামায়াত প্রার্থীর কথা বলা হলেও বাস্তবে তালিকা রয়েছে ২৮৩ জনের নাম। প্রার্থীর নামেরও কিছু অসংগতি ও ভুল রয়েছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর তারা নিজস্ব প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিতে পারেনি। দলটি ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে ভোট করেছে দলটি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে রাজনীতির মাঠে সরব হয়েছে। তারা রাজনৈতিক কার্যক্রম বাড়িয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য সারা দেশে প্রার্থিতা বাছাই করেছে দলটি।

দলটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও নির্বাচনী বোর্ড পরিচালনার সভাপতি অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে গিয়ে দলটির রুকনদের (শপথধারী সদস্য) মতামত নিয়ে তাদের প্রার্থী নির্বাচন করেছে। এরই মধ্যে তাদের মনোনীত প্রার্থীরা বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী গণসংযোগ করেছে বলে মাঠ পর্যায়ের  সদস্যরা (ফিল্ড মেম্বার) অবগত হয়েছেন। কিছু দিন আগে দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ পটুয়াখালীর বাউফল এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।