করোনায় ক্ষতির মুখে মোংলার চিংড়ি চাষীরা

 জসিম উদ্দিন | মোংলা প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২০-০৪-২৯ , ১০:৫৯ এএম

করোনায় ক্ষতির মুখে মোংলার চিংড়ি চাষীরা

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে চিংড়িশিল্প। গত এক মাসে সাদা সোনা হিসেবে ক্ষ্যত চিংড়ি মাছ বিদেশে রপ্তানী না হওয়ায় ন্যয্য মুল্য পাচ্ছেন না চাষীরা।

লবন অধ্যুষিত উপকুলীয় অঞ্চল মোংলায় প্রায় তিন যুগ আগে থেকে ধানের পরিবর্তে বছরের প্রায় আট মাসই বাগদা চিংড়ি চাষ হয়ে আসছে । মোংলার ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর কৃষিজমির মধ্যে ১০ হাজার ৮৫৮ হেক্টর জমিতেই বাগদা চিংড়ি চাষ করা হয়। আর এ পরিমাণ জমির মধ্যে ছোট-বড় মিলিয়ে মৎস্য খামারের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৫৫০। অন্য কোনো ফসল না হওয়ায় এ উপজেলার অধিকাংশ মানুষই চিংড়ি চাষের ওপর নির্ভরশীল।

মোংলার চাদপাই ইউনিয়নের বাসিন্দা কয়েকটি মৎস্য প্রজেক্ট এর মালিক মোঃ সেলেম রেজা বাচ্চু, জানান, গেল এক মাস যাবৎ চিংড়ি প্রক্রিয়াকরন কারখানা মালিকগন বিদেশে রপ্তানী না হওয়ার দোহায় দিয়ে প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে চিংড়ি মাছ ক্রয় করছেন না। এর ফলে মাছের দাম চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। কবে কোম্পানিগুলো আবার মাছ কিনবে, সে বিষয়ে ও তারা সন্দিহান। পরিবহন চলাচল না করার কারনে মাছের চাহিদানুযায়ী মাছের খাদ্য পাওয়া যাচ্ছেনা।

মোংলার মালগাজী এ লাকার ক্ষুদ্র চিংড়ি চাষী মোঃ আলী আকবর জানান, প্রতিনিয়ত লোকসান আবার করোনায় মাছের খাবার সংকট আর সঠিক মুল্য না পাওয়ার কারনে প্রান্তিক চাষীরা সর্বশান্ত হয়ে পড়বে। এর ফলে চিংড়ি শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুব আতঙ্কে আছি।

মোংলা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা এ জেড এম তৌহিদুর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাবে অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়েছে। তার প্রভাব তো অবশ্যই চিংড়িশিল্পের ওপর পড়বে। তবে সরকার প্রান্তীক চাষীদের সহায়তা করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষে আমরা স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি তালিকা তৈরীর কাজ করছি। দ্রুত এটি সম্পর্ণ করে পাঠিয়ে দেয়া হবে