কচুরিপানায় কৃষকের খরচ বাড়ল ৪ কোটি টাকা

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৪-১২-১১ , ০৪:২৯ পিএম

কচুরিপানায় কৃষকের খরচ বাড়ল ৪ কোটি টাকা ছবি: ইন্টারনেট

লনবিলের পানি চলমান না থাকায় বর্ষায় জমা কচুরিপানা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।  কৃষিবিভাগ বলছে, ইরি মৌসুমের চাষাবাদের আগে জমি থেকে কচুরিপানা সরাতে কৃষকদের অতিরিক্ত গুনতে হবে ৪ কোটি টাকা।  চলনবিলকে চলমান করতে না পারলে আরও ক্ষতিতে পড়বেন কৃষকরা বলে জানায় কৃষিবিভাগ।  আর পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, চলনবিলকে চলমান করতে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগের সমীক্ষা চলছে।

বর্ষার পানি নেমে গেলেও চলনবিলের নাটোরের সিংড়া উপজেলা জুড়ে থাকা কচুরিপানা এখনও সরে যায়নি।  সিংড়ার উপজেলার চলনবিলের অংশে আবাদযোগ্য প্রায় ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি ধান রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা।  তবে বিলজুড়ে কচুরিপানা নিয়ে বিপাকে কৃষকরা।

সিংড়ার চৌগ্রামের কৃষক রফিক বলেন, চলনবিল চলমান না থাকায় প্রতিবছর জমিতে জমছে কচুরিপানা।  প্রতি বিঘা জমির কচুরিপানা তুলতে ৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

তিনি বলেন, চলনবিলের তলানি সিংড়া উপজেলা।  তাই এই কচুরিপানার দুর্ভোগ তাদের শেষ হয় না।  বিঘা প্রতি কচুরিপানা তুলতে তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ইতালির লিটন বলেন, সিংড়া উপজেলার অধিকাংশই চাষের জমিতে শুধুমাত্র একটি ফসল ইরি মৌসুমের ধান উৎপাদন হয়। ফলে একটি ফসল ঘরে তুলতে অতিরিক্ত খরচ করে কচুরিপানা পরিষ্কার করার কোন বিকল্প নেই।  তাই অতিরিক্ত খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

নাটোরের সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে সিংড়া উপজেলায় ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি মৌসুমের ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে কচুরিপানা আটকে আছে।  এই কচুরিপানা সরিয়ে চাষের উপযোগী করতে কৃষকদের অতিরিক্ত গুনতে হবে প্রায় ৪ কোটি টাকা।  বিষয়টি প্রতিকার চেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, চলন বিলকে আগের অবস্থায় ফেরাতে চলন বিলের আওতায় ৮ জেলার ২৩ বিলের ওপর সমীক্ষা চলছে। সমীক্ষা শেষে চলন বিলকে চলমান করার কার্যক্রম শুরু হবে।  চলনবিলের নদী খাল খনন করলে এই অবস্থা থেকে কৃষকরা মুক্তি পাবে বলে জানান তিনি।