ঘরের মধ্যে ঘর, জনে জনে হাওলাদার

 নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২০-০৪-২৬ , ০৭:৩২ পিএম

ঘরের মধ্যে ঘর, জনে জনে হাওলাদার ছবি: ইন্টারনেট

প্রবাদ প্রবচন প্রতিটি ভাষার অমূল্য সম্পদ। আর এর মাধ্যমে বাঙালির জীবন, ধর্ম, সংস্কৃতি, আচার, বিশ্বাস ও রসবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। ঘরের মধ্যে ঘর, জনে জনে হাওলাদার এর অর্থ হলো- ঘরের সবাই নিজেকে মাতব্বর মনে করা। মাতব্বর হলে ভালো কিন্তু মাতব্বর না হয়ে মাতব্বরি করতে যাওয়া যেমন ভালো না তেমনি অন্যের জন্য ক্ষতিরও কারণ।

বিশ্বব্যাপি করোনাভাইরাসের প্রভাবে লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশেও এর বাইরে নয়। দেশের বিভিন্ন জেলা, শহর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সবাইকে যখন ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে ঠিক তখনই কৃষি নির্ভর দেশে ধান কাঠার মৌসুম শুরু হয়েছে।

এমন অবস্থায় কৃষকরা তাদের ধান কাটতে প্রয়োজনীয় লোকজন না পাওয়ার ফলে ধান কাটা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বেরো ধান কাটা নিয়ে।

পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করলেও সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে, রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের লোকজন কৃষকের ধান কাটার জন্য মাঠে নামলেও কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে ওইসব নেতাকর্মীরা ধান কাটতে গিয়ে তাদের ফসলের চরম ক্ষতিধাসন করছে।

এসব বিষয়ে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের ফটোসেশনসহ ধান নষ্ট করার প্রতিবেদনও উঠে আসছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) এমন একটি প্রতিবেদন উঠে আসে রাজবাড়ী জেলার।

কৃষকদের অভিযোগ, রাজবাড়ীর কৃষকলীগের নেতাদের অভিজ্ঞতা না থাকায় ধান কাটতে গিয়ে অনেক ধান নষ্ট করেছে তাদের। তাদের ধান কাটার সময় অনেক ধান মাটিতে পড়ে গিয়েছে। যেগুলো পরে আবার আমাদের কৃষকদিয়ে কুড়াতে হচ্ছে।

জানা যায়, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় কৃষকলীগ নেতা নূর এ আলম সিদ্দিকী (হক) কথিত ধান কাটা কর্মসূচী উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের ধান কাটার জন্য নেতকর্মীদের হাওরে কৃষকদের সহযোগিতা করতে বললেও কিছু নেতাকর্মীরা এসব ধান কাটতে গিয়ে কথিত ধান কাটা কর্মসূচির উদ্বোধনও করছেন।  পরে মাঠে নেমে কাঁচি হাতে কয়েক মিনিট ধান কাটার নামে ফটোসেশন করে ধান নষ্ট করছেন বলে কৃষকরা অভিযোগ করছেন।

আশ্রয়ন প্রকল্পের কৃষক আব্দুল মমিনের ছেলে রানা (২১) বলেন, লকডাউন থাকার কারণে কৃষক পাওয়া যাচ্ছিলো না। তারপর বড় কষ্টে আট জন শ্রমিক জোগাড় করে আমাদের বর্গা অংশের ৫৫শতাংশ জমিতে ধান কাটা শুরু করি। এমন সময় রাজবাড়ী সহ বালিয়াকান্দি উপজেলার কৃষকলীগের নেতারা আমার আট জন শ্রমিকের সাথে ধান কাটে। তবে অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে আমার বেশ ক্ষতি হয়েছে।

কৃষক আব্দুল মমিন বলেন, নেতারা তাদের ধান কাটার সময় অনেক ধান মাটিতে পড়ে গিয়েছে। যেগুলো পরে আবার আমাদের কৃষকদিয়ে কুড়াতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের এ ক্রান্তিকালে কৃষকসহ দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যখন খাদ্য সঙ্কটে তখন এসব নেতারা কখনও কোনও কৃষক বা এলাকার গরীব মানুষদের জন্য খাদ্য সহায়তা করেননি। কোনও এলাকায় গিয়ে জনসাধরণের খোঁজ-খবরও নেননি বলে অভিযৈাগ করেন।

এ বিষয়ে নূর এ আলম সিদ্দিকী (হক) বলেন, রাজবাড়ীর জেলার ৪২টি ইউনিয়নে আমাদের কৃষকলীগের নেত্রীবৃন্দকে অবহিত করা রয়েছে। যদি কোন কৃষক ধান কাটতে না পারে তবে আমাদের কৃষকলীগের নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হলে ধান কেটে দিয়ে বাড়ীতে পৌঁছে দিয়ে আসা হবে। ধান নষ্টের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমাদের কর্মকাণ্ডে কৃষক আব্দুল মমিন সন্তুষ্ট হয়েছে।