অমিত হত্যা; সেলের ভিতরে ইট আসলো কীভাবে?

 রোমান শেখ
আপডেট: ২০১৯-০৫-৩০ , ০৪:০৪ পিএম

অমিত হত্যা; সেলের ভিতরে ইট আসলো কীভাবে? ছবি: ইন্টারনেট

চট্টগ্রাম কারাগারের ৩২ নাম্বার সেলের ভিতরে নগর যুবলীগের সন্ত্রাসী অমিত মুহুরীকে মাথায় ইটের আঘাত করা হয় বুধবার (২৯মে) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে। কারা অভ্যান্তরে অমিতের চিকিৎসা সেবা চলে রাত প্রায় পৌনে ১১টা অব্দি। ক্রমশ অবস্থার অবনতি দেখে অমিতকে নেয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো বিভাগে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অমিত মারা যায় রাত প্রায় দেড়টার দিকে। বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

‘কারাগারের ৩২  নাম্বার সেলে অমিত মুহুরীর সাথে থাকতো আরেকজন আসামী। বুধবার বিকাল পাঁচটার দিকে ওই সেলে রিপন নাথকে হস্তান্তর করা হয়। যে রিপন অমিত মুহুরীকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। বৃহস্পতিবার (৩০মে) বেলা প্রায় ৩টার দিকে সিটিজেন নিউজ.কম.বিডি’কে এসব কথা বলছিলেন চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার নাছির আহম্মেদ।’

অমিতকে হত্যার সময় কারারক্ষী কী করছিলেন?

জেলার নাছির আহম্মেদ: ওই সিরিয়ালে এক থেকে আটটি সেল রয়েছে। যখন রিপন নাথ অমিত মুহুরীকে মারছিলো তখন শাহপরান নামে এক কারারক্ষী দায়িত্বে ছিলেন। কারারক্ষী শাহপরান তালা খুলতে খুলতে রিপন নাথ অমিতকে মাথায় আঘাত করে ফেলে।

কী দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়?

জেলার নাছির আহম্মেদ: ইট দিয়ে।

মেডিকেল সূত্রে জানা যায়, অমিতের মাথায় ৩০টি সেলাই পড়েছে; তাহলে নিশ্চই বড় ইট ছিলো?

জেলার নাছির আহম্মেদ: হ্যাঁ, একটা ইটের অর্ধেক ছিলো।

সেলের মধ্যে ইট আসলো কীভাবে?

জেলার নাছির আহম্মেদ: সেলে ইট কীভাবে আসলো এজন্য দুইজন কারারক্ষীকে শোকজ করা হয়েছে।

শোকজ করা দুই কারারক্ষীর নাম কী?

জেলার নাছির আহম্মেদ: একজন শাহপরান অন্য জনের নাম মনে নেই; পরে বলতে পারবো।

রিপন নাথ আর অমিত মুহুরী একসাথে ওই ৩২ নাম্বার সেলে কতদিন?

জেলার নাছির আহম্মেদ: রিপন নাথকে গতকাল (বুধবার) বিকাল ৫টায় ওই ৩২ নাম্বার সেলে হস্তান্তর করা হয়।

রিপকে ৩২ নাম্বার সেলে বিকাল ৫টার দিকে হস্তান্তরের সময় রিপন কি ইট নিয়ে ঢুকেছে?

জেলার নাছির আহম্মেদ: নাহ

তখন কারারক্ষী কে ছিলেন?

জেলার নাছির আহম্মেদ: তখন অন্য একজন ছিলেন (নাম মনে নেই)।

তাকে কি শোকজ করা হয়েছে?

জেলার নাছির আহম্মেদ: নাহ।

রিপনকে নিয়ে আসা ওই কারারক্ষী কি ইট ঢুকিয়েছেন?

জেলার নাছির আহম্মেদ: নাহ।

তাহলে সেলের মধ্যে ইট কি আগে থেকে ছিলো?

জেলার নাছির আহম্মেদ: নাহ।

তাহলে ইট আসলো কীভাবে?

জেলার নাছির আহম্মেদ: সেটাই এখন তদন্তের বিষয়; মামলা হয়েছে, পুলিশ তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীদের দায়িত্ব অবহেলা বা কারও যোগসজাগ অথবা হত্যাকান্ডটি পরিকল্পিত কীনা?

জেলার নাছির আহম্মেদ: হ্যাঁ, দায়িত্ব অবহেলা থাকতে পারে তবে, হত্যাকান্ডটি কেনো হয়েছে সেটা তদন্তের পর বলা যাবে।