রোমান শেখ
আপডেট: ২০১৯-০৯-১৪ , ১১:৫৫ এএম
ছবি: ইন্টারনেট
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশী কাজ করছে। ব্যবসা, দিনমজুর থেকে শুরু করে বহু শ্রমিক রয়েছে ওই সংখ্যায়। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ঘুরছে দেশের অর্থনীতির চাকা। এক কোটি প্রবাসীর আয়ের অর্থে দিয়ে চলছে তাদের পরিবারের কয়েক কোটি সদস্য। সংসার-ভবিষ্যত আর বাড়তি আয়ের আশায় পাড়ি জমিয়ে পার করছে বছর-যুগ।ঝুঁকিপূর্ণ অনেক পেশায় প্রতি বছর মারা যাচ্ছে হাজার হাজার শ্রমিক। অথচ এসব প্রবাসীদের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে নেই কোনও সরকারি উদ্যোগ।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ জন শ্রমিকের লাশ আসছে। এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে এসেছে ২ হাজার ৬১১টি লাশ। এর মধ্যে প্রথম ছয় মাসের মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশই মারা গেছেন স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে। এরপর দুর্ঘটনায় মারা গেছেন প্রায় ১৮ শতাংশ। আর স্বাভাবিক মৃত্যু ৫ শতাংশ।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সচিব রৌনক জাহান সিটিজেন নিউজকে বলেন, এখনও এ বিষয়ে কেউ কোনও প্রশ্ন করেনি। যদি কেউ মনে করে এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজন আছে তাহলে অবশ্যই নেয়া হবে। কী কারণে মৃত্যুর হার বাড়ছে- এখন থেকে এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা হবে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসীদের অস্বাভাবিক মৃত্যু তদন্তে কোনো উদ্যাগ নেই সরকারের। মৃত্যুর কারণ যাচাই-বাছাই করে দেখা হয় না। প্রবাসী কর্মীদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও নেই কোনও নজরদারি। বছরের পর বছর অস্বাভাবিক মৃত্যু বাড়তে থাকলেও তা প্রতিরোধে সক্রিয় হচ্ছে না সরকার।
অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমানো কিংবা কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে এজেন্সিগুলোর উদাসীনতা কিংবা সরকারি নজরদারি না থাকাও প্রবাসে মৃত্যুর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন সরকারি ও বেসরকারি অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ অভিবাসন ব্যয় প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ানোর অন্যতম কারণ। ঋণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে টাকা শোধ করার চাপের কারণে অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতা রয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে। ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার কারণে নিয়মিত ঘুমানোর সুযোগ পান না শ্রমিকেরা। এসব কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। অথচ বাংলাদেশে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার প্রবাসী আয় আসে। দ্বিতীয় বৈদেশিক আয়ের এ খাতে সরকারের তেমন কোনো বিনিয়োগ নেই। প্রবাসীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে দূতাবাসগুলোর জনবল ঘাটতির কথা বলা হয় প্রায়ই।
ব্রাক অভিবাসন প্রোগ্রামের প্রধান সমন্বয়ক শরিফুল হাসান সিটিজেন নিউজকে বলেন, কেন আমাদের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ব্রেন স্টোক ও হার্ট অ্যাটাক করে মারা যাবে- এটা আমাদের ভাবা উচিত। এদের বেশিরভাগ বয়সই কিন্তু ৩০ এর নিচে। এই বয়সে এসব রোগে মারা যাওয়াটা স্বাভাবিক মনে হয় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের ময়নাতদন্ত করা উচিত। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে, আসলেই তারা কি আত্মহত্যা করছে নাকি তাদের আত্মহত্যার জন্য প্ররোচনা করা হয়েছে।
এদিকে, জনশক্তি রপ্তানির হার কমছে। ২০১৭ সালে ১০ লাখ জনশক্তি রপ্তানির রেকর্ড হলেও ২০১৮ সালে গেছেন ৭ লাখের বেশি কর্মি, আর চলতি বছরের ৮ মাসে গিয়েছেন মাত্র ৩ লাখ ৮৪ হাজার।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.