মুহাম্মদ মোবারক আলী
আপডেট: ২০১৯-০৯-১৪ , ১১:৪৯ এএম
ছবি: ইন্টারনেট
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার তারাকান্দি যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে প্রায় এক বছর ধরে। এর ফলে কারখানার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া কারখানার নিজস্ব সার উৎপাদন বন্ধ থাকায় বিদেশ থেকে অধিক দামে যে ইউরিয়া সার আমদানি করা হয়েছে তাও আবার খোলা আকাশে নিচে রাখার ফলে বৃষ্টিতে ভিজে এর গুণগত মান কমে, সার জমাট বেঁধে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর কারখানাটির অ্যামনিয়া প্লান্টের সিনথেসিস সেকশনের স্টার্টার হিটারের হাইড্রোজেন গ্যাসের পাইপলাইন ফেটে আগুন ধরে যাওয়ায় এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সার কারখানাটি থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে উত্তরবঙ্গসহ দেশের ১৯টি জেলায় এই সার কৃষকের কাছে বিতরণ করা হতো।
যমুনা সার কারখানার তথ্য মতে, যমুনা সার কারখানাটি ১৯৯১ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে সার উত্পাদনে যায়। ঐ সময় থেকেই ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উত্পাদন করে আসছিল; কিন্তু যন্ত্রপাতি পুরোনো হওয়া এবং চাহিদার তুলনায় তিতাস গ্যাস সরবরাহ না থাকার কারণে গড়ে সার উত্পাদন নেমে এসেছিল ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টনে। সে হিসাব অনুযায়ী গত ৯ মাসে সার উত্পাদন ব্যাহত হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন। এছাড়াও এক বছর কারখানা বন্ধ থাকায় কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতনভাতাসহ সব কিছু মিলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় হাজার কোটি টাকার ওপরে।
এ বিষয়ে কারখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা সিটিজেন নিউজকে জানান, সার কারখানা স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান জাপানের মিটসুবিশি হ্যাপি ইন্ডাস্ট্রিয়াল করপোরেশন। তাই মিটসুবিশি কোম্পানির সঙ্গে বিসিআইসির যোগাযোগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। স্টার্ট অফ হিটারটি তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠানটি ফেব্রিকেশনের কাজ করছে। বিশেষজ্ঞ দলের একটি টিম এ মাসে (সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি) আসার কথা রয়েছে, অপর দলটি অক্টোবরে স্টার্ট অফ হিটারসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ নিয়ে কারখানায় আসবেন। নভেম্বরে মেরামতের কাজ শেষ হলে ডিসেম্বরে কারখানা সার উৎপাদনে যওয়ার আশা প্রকাশ করছেন তিনি।
যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল) শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের এক নেতা সিটিজেন নিউজকে জানান,কারখানা বন্ধ থাকায় কারখানাসংশ্লিষ্ট প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিনি বলেন, কারখানা এলাকায় প্রায় ৬০০ ট্রাক আছে, প্রতিদিন ৩ থেকে ৪০০ ট্রাকে সার পরিবহন করা হয়ে থাকে। কারখানা বন্ধ থাকার কারণে পরিবহন সংশ্লিষ্ট ট্রাকের চালক-হেলপারসহ আরো প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
কৃষক, শ্রমিক ও কর্মচারীদের কথা বিবেচনা করে এই কারখানা চালুর ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে সরকার- এমনটি প্রত্যাশা সকলের।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.