নানান জটিলতায় পণ্য নিলামে ধীরগতি চট্টগ্রাম বন্দরে

 মুহাম্মদ মোবারক আলী
আপডেট: ২০১৯-০৯-১২ , ০১:৩৫ পিএম

নানান জটিলতায় পণ্য নিলামে ধীরগতি চট্টগ্রাম বন্দরে ছবি: ইন্টারনেট

নানান জটিলতায় পণ্য নিলাম প্রক্রিয়ায় ধীরগতি চট্টগ্রাম বন্দরে। গত চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পড়ে আছে পণ্যভর্তি ৬ হাজার কন্টেইনার। শুল্কায়নে জটিলতা, মিথ্যা ঘোষণায় আটক পণ্য ছাড় না নেয়াসহ নানা কারণে জমেছে এগুলো। এতে, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম। ফলে, নানা জটিলতায় নিলাম প্রক্রিয়া চলছে ধীর গতিতে আর ধ্বংস কার্যক্রমেও নেই তৎপরতা।

প্রায় ৪৯ হাজার টিইউএস কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতার চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনারের স্তুপ শুধুই বড় হচ্ছে। বন্দরে জমে থাকা কন্টেইনারের চারভাগের একভাগই নিলামযোগ্য। এগুলোতে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে মেশিনারিজসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে। যার বড় অংশই ডাম্পিং করতে হবে। কিন্তু, নানা জটিলতায় নিলাম প্রক্রিয়া চলছে ধীর গতিতে আর ধ্বংস কার্যক্রমেও নেই তৎপরতা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, 'নিলামের প্রক্রিয়াটা কাস্টমসের ব্যাপার। চট্রগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিলাম করেনা। এই কন্টেইনারগুলো নিলাম করা হলে ওই জায়গাটা আমরা এক্সপোর্ট কন্টেইনারের জন্য ব্যবহার করতে পারবো।'

মাসে ২ বার নিলামে পণ্য বিক্রি ও ৬ মাসে একবার পণ্য ধ্বংস করার বিধান রয়েছে। কিন্তু, অনেক আমদানিকারক আদালতের শরণাপন্ন হওয়ায় নিলাম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার মো: ফখরুল আলম জানান, 'সময়ের মধ্যে যে মালগুলো বিক্রি হবেনা, ওই মালগুলো আমরা দ্রুত নিলাম করার ব্যবস্থা করবো। আমদানি করা মাল যদি আনলোড করার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সেটা তো বন্দরে সমস্যা তৈরি করবেই। সেই উদ্যোগও আমাদের আছে।'

ব্যবসায়ীরা বলছেন নিলামযোগ্য কন্টেইনারের কারণে কন্টেইনার জটে পড়তে হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরকে। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবল আলম বলেন, 'এগুলো তো পড়ে থাকার জন্য বন্দরে আসেনি। যত তাড়াতাড়ি এগুলো সরানো হবে ততই মঙ্গল।'

অভিযোগ রয়েছে, কাস্টমস হাউজে কাঙ্খিত পরিমাণের উৎকোচ ছাড়া তৎপর হয় না নিলাম শাখা। নির্ধারিত সময়ে নিলাম করা গেলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেতো সরকার।