তুষারঝড়ে নিউইয়র্ক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা; তীব্র ঝড়ের আশঙ্কা

 সৈয়দা মঈন l চিফ কান্ট্রি করেসপন্ডেন্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
আপডেট: ২০২৬-০২-২৩ , ০১:৩৩ পিএম

তুষারঝড়ে নিউইয়র্ক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা; তীব্র ঝড়ের আশঙ্কা ছবি: আন্তর্জাল

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী শীতকালীন ঝড় আঘাত হানার আশঙ্কায় নিউইয়র্ক সিটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও সর্বাত্মক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোরান মামদানি রোববার এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, রোববার রাত ৯টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত শহরের সড়ক, মহাসড়ক ও সেতুগুলোতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি ব্লিজার্ড বা তীব্র তুষারঝড়ে রূপ নিতে পারে। এতে এক ফুটেরও বেশি তুষারপাত, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭০ মাইল বেগে দমকা হাওয়া এবং উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। মেরিল্যান্ড থেকে ম্যাসাচুসেটস পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা প্রায় সাড়ে তিন কোটির বেশি মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে।

মেয়র মামদানি রোববার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বলেন, এতে দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, সোমবার নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলগুলোতে পূর্ণাঙ্গ স্নো ডে ঘোষণা করা হয়েছেকোনও অনলাইন বা দূরশিক্ষা কার্যক্রমও থাকবে না। বাসিন্দাদের ঝড় না থামা পর্যন্ত ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়িতে থাকাই নিরাপদ।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, রোববার বিকেলের পর ঝড়ের তীব্রতা পূর্বাভাসের তুলনায় আরও বাড়তে পারে। নিউইয়র্ক সিটি ও লং আইল্যান্ড উপদ্বীপসহ নিউ জার্সি, কানেকটিকাট, ডেলাওয়ার, মেরিল্যান্ড, রোড আইল্যান্ড এবং ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় ১ থেকে ২ ফুট পর্যন্ত তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেলাওয়ার বে থেকে কেপ কড পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মাইল উপকূলজুড়ে উচ্চ জোয়ারের সময় ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে, যা মাঝারি মাত্রার উপকূলীয় প্লাবন ও সৈকত ক্ষয়ের কারণ হতে পারে। ঝড়ের সময় হোয়াইটআউট পরিস্থিতি তৈরি হয়ে দৃশ্যমানতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে, যা ভ্রমণকে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণঘাতী করে তুলতে পারে। তীব্র বাতাস ও ভারী তুষারের চাপে বিদ্যুৎলাইন ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে, ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ৬ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নিউইয়র্কের জেএফকে, লা গার্ডিয়া ও নিউয়ার্কসহ ফিলাডেলফিয়া এবং বোস্টন লোগান বিমানবন্দরে।

ঝড় মোকাবিলায় নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তুষার অপসারণ যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেছে এবং বাসস্টপ, ক্রসওয়াক ও পথচারী র‌্যাম্প পরিষ্কারে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে। রোববার রাত থেকেই কর্মীরা তুষার পরিষ্কারের কাজে নামবেন। পাশাপাশি গৃহহীনদের আশ্রয়কেন্দ্র ও উষ্ণতা কেন্দ্রে নেওয়ার কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নিউ জার্সির গভর্নরও রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। গত ৩০ বছরে প্রথমবারের মতো রাজ্যের ২১টি কাউন্টি একযোগে ব্লিজার্ড সতর্কতার আওতায় এসেছে। অনেক গির্জা রোববারের প্রার্থনা বাতিল করেছে এবং আটলান্টিক সিটির নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী ও পর্যটকদের রাস্তায় না বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বোস্টনেও মেয়র জরুরি তুষার সতর্কতা জারি করে সোমবার সরকারি স্কুল ও সিটি অফিস বন্ধ ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, চলতি মৌসুমের আরেকটি বড় শীতকালীন ঝড়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে শহরটি, যা ঐতিহাসিক মাত্রার হতে পারে।

সর্বমোট, পূর্ব উপকূলজুড়ে তীব্র তুষারঝড়ের আশঙ্কায় প্রশাসন ও বাসিন্দারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এবং অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।