মার্কিন ভিসা: বাংলাদেশের অভিবাসন প্রত্যাশীরা দুশ্চিন্তায়

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট: ২০২৬-০১-১৬ , ০৮:৩৬ এএম

মার্কিন ভিসা: বাংলাদেশের অভিবাসন প্রত্যাশীরা দুশ্চিন্তায় ছবি: নাগরিক পত্রিকা

মিগ্র্যান্ট (অভিবাসী) ভিসা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক অভিবাসন প্রত্যাশীরা। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিয়ে দেশটিতে যাওয়ার স্বপ্ন এখন মরীচিকা হয়ে ধরা দিয়েছে। অনেক বাংলাদেশি তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস বলেছে, মার্কিন প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা শুধুই দেশটিতে অভিবাসন প্রত্যাশীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ২১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হচ্ছে। এর আগ পর্যন্ত ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে ভিসা বিষয়ে সাক্ষাৎকারের যে তারিখ ও সময় দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ভিসা স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে অ-অভিবাসী আবেদন।

অ-অভিবাসী ভিসার মধ্যে পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, ক্রীড়াবিদ, সাংবাদিক, শিল্পী, কূটনীতিকসহ ৩৪টি ক্যাটাগরি উল্লেখ আছে। ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ উপলক্ষ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক তারা অভিবাসী ভিসানীতির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে থাকবেন।

তবে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও নীতিগত পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

এ বিষয়ে সচিবালয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, অভিবাসী ভিসা স্থগিতের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কতগুলো কারণ উল্লেখ করেছে। এটা মাত্র এসেছে। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নিরাপত্তা উপদেষ্টা যারা আছেন, তারা এটা নিয়ে নিশ্চয়ই একটা কর্মকৌশল বের করবেন; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও সংযুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, আসলে যেসব দেশ থেকে অভিবাসী বেশি যায় বা যেসব দেশের মানুষ গিয়ে পরে রাজনৈতিক আশ্রয় চায়, যেসব দেশের মানুষ গিয়ে ওদের সামাজিক পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তাই তাদের সরকার ঠিক করেছে যে সেসব দেশের ব্যাপারে এই নিষেধাজ্ঞা, এই শর্তগুলো তারা আরোপ করবে। এটা তাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। সেখানে আমাদের কোথায় অসুবিধা হচ্ছে, কী করণীয় সেগুলো নিয়ে কথা বলব।

অভিবাসন ক্যাটাগরিতে যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছেন তারা ২১ জানুয়ারির মধ্যে ভ্রমণ করতে পারবেন। এই সময়ের পরে যুক্তরাষ্ট্রে এলে ঝুঁকির মধ্যে পড়ার সম্ভাবনা আছে। পরিবারনির্ভর ইমিগ্রেন্ট ভিসা শুধু স্থগিত করা হয়েছে। এটি সাময়িক সময়ের জন্য। স্টুডেন্ট বা ট্যুরিস্ট ভিসা আগের মতোই দেওয়া হবে। তবে আমেরিকান প্রশাসন থেকে যে ভিসা বন্ড কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে তা এখানে কার্যকর হবে। উপযুক্ত ব্যক্তিকে জামানত হিসাবে ৫ হাজার, ১০ হাজার কিংবা ১৫ হাজার ডলার জমা দিতে হবে।

সূত্রের তথ্য মতে, বাংলাদেশিরা এখন ৯টি বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা বন্ডধারীদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রবেশ বন্দরের তালিকা তিনটি থেকে বাড়িয়ে নয়টি করেছে। বর্ধিত এই নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু বি১/বি২ ভিজিটর ভিসাধারীদের শুধু নির্ধারিত বিমানবন্দর দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে। অভিবাসীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে সেখানকার সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হচ্ছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত এসেছে।