সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা থানায় মামলা করতে গিয়ে নিজেই গ্রেফতার

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৫-১১-০৪ , ১০:৪৭ এএম

সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা থানায় মামলা করতে গিয়ে নিজেই গ্রেফতার ছবি: নাগরিক পত্রিকা

ট্টগ্রাম নগরীর সাবেক এক যুবলীগ নেতা থানায় মামলা করতে গিয়ে নিজেই আটক হন। তাকে মারধর করা হয়েছে- এমন অভিযোগ নিয়ে যুবলীগের ওই নেতা নিজেই গতকাল (২ নভেম্বর) রাতে থানায় যান মামলা করতে। এসময় তার কথাবার্তা এলোমেলো মনে হলে বায়েজিদ বোস্তামী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নিজেই তাকে আটক করে।

থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, ‘‘দেলোয়ার হোসেন নামে এক যুবলীগ নেতা সরাসরি আমার রুমে আসে একটি মামলা দায়ের করতে। পরে ঘটনার সত্যতা জানতে তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। তার কথাবার্তা এলোমেলো মনে হলে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোক বলে শনাক্ত করি।’’

দেলোয়ার হোসেন (৩৭) নামে আটককৃত ওই যুবলীগ নেতা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের অনুসারী হলেও তিনি চট্টগ্রাম নগরীর যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বায়েজিদ থানাধীন এলাকার রৌফবাদ এলাকায় বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়াতে।

ওসি বলেন, দেলোয়ার যাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে এসেছিল তাদের মধ্যে একজনের নাম জসিম। তিনি পাহাড়িকা আবসিক এলাকার ৪ নাম্বার রোডের একটি নির্মানাধীন ভবনের মালিক। দেলোয়ার কয়েকদিন আগে জসিমকে ফোন দিয়ে বালু সাপ্লাই দিবে বলে হুমকি দেয়।

জসিম রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কৌশলে মামলা করতে থানায় এসেছিল যুলীগ নেতা দেলোয়ার।

স্থানীয় একজন জানান, দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম নগরীর যুবলীগের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি তিনি ভোল পাল্টে নিজেকে বিএনপির নেতা দাবি করে এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে।

ভূক্তভোগী জসিম জানান, দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তি তাকে ফোন দিয়ে তার নির্মানধীন ভবনে বালু সরবরাহের কাজ দিতে হুমকি দেয়। তিনি বলেন, পরে শুনেছি দেলোয়ার আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা করতে গিয়ে গ্রেফতার হন।

বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।