চট্টগ্রামে লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ জনজীবন

 নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২২-১০-২৩ , ০৭:২১ এএম

চট্টগ্রামে লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ জনজীবন ছবি: নাগরিক পত্রিকা

বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও চট্টগ্রাম নগরে দিন দিন লোডশেডিং বেড়ে গেছে। দিনে ও রাতে মিলিয়ে পাঁচ থেকে সাতবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ যাচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে ঘণ্টা পার হলেও আসে না। কখনো কখনো দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর আসে। আবার বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ থাকার পরই আবার চলে যায়।

ঘোষণা ছিল প্রতি এলাকায় দিনে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেয়া হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে দিনে লোডশেডিং হচ্ছে পাঁচ থেকে সাত বার। ফলে দুর্বিষহ চট্টগ্রামের জনজীবন। লোডশেডিংয়ের কারণে কমেছে কলকারখানার উৎপাদনও।

জানা যায়, কেবল বাসা বাড়িতে নয়, কল কারখানা, দোকানপাট, অফিস সবখানেই লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন। ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন কর্মকাণ্ড। আর্থিক ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ কোথাও কোথাও লোডশেডিং হচ্ছে গড়ে পাঁচ থেকে সাত বার।

চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি শিল্প কারখানার মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিক মতো কাজ শেষ করতে পারছেন না তারা। অনেক অর্ডার আটকে আছে। ফলে গার্মেন্টসের পণ্যও বিদেশে রপ্তানিতে দেরি হচ্ছে। এতে মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য মতে, চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ কম পাওয়ায় তৈরি হচ্ছে এ সংকট। ফলে ঠিক রাখা যাচ্ছে না লোডশেডিংয়ের নির্ধারিত সিডিউল।

পাহাড়তলী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের তথ্য মতে, ২৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৩ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পান। যে কারণে রেশনিং করে বিদ্যুৎ দিচ্ছেন গ্রাহকদের। জাতীয় গ্রীডে ঠিক মত সরবরাহ না থাকায় এ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া লোডশেডিংয়ের পরিমাণ সব সময় এক রকম থাকে না। তাই সব সময় নির্ধারিত সিডিউল ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। শীত মৌসুমে এই সংকট কিছুটা কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ মিলছে ১১শ' থেকে ১২শ' মেগাওয়াটের মতো। সবমিলে গ্রাহক প্রায় ১৩ লাখ।