‘জলবায়ু পরিবর্তনে দরিদ্র দেশগুলো দায়ী নয়’

 সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০২১-১১-০১ , ০৯:২৬ পিএম

‘জলবায়ু পরিবর্তনে দরিদ্র দেশগুলো দায়ী নয়’ ছবি: সিটিজেন নিউজ

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের মতো দেশগুলো দায়ী নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষ সম্মেলন কপ-২৬ এর ক্লাইমেট সেশনে দেয়া বক্তব্যে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় জলবায়ু তহবিলকে দুইভাগ করে অভিযোজন ও প্রশমন প্রক্রিয়ায় বরাদ্দের দাবি জানান প্রধানমন্ত্রী।

জলবায়ু সম্মেলনের কমনয়েলথ ক্লাইমেট সেশনে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী আলোচনার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার প্রধান বলেন, আমি বিশ্বাস করি কমনওয়েলথ দেশগুলো যৌথভাবে কাজ করলে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন করতে পারবে। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার এখনই সময়।

দায় কম হলেও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্লাইমেট ভালনেরবল ফোরামের সদস্য ৪৮টি দেশ বিশ্বের মোট পরিমাণের মাত্র ৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব আমাদের জীবন ও জীবিকার জন্য মৌলিক হুমকি সৃষ্টি করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ক্লাইমেট ভারনারেবল ফোরামকে সহায়তা দেয়ার জন্য অধিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর সংগঠন সিভিএফ'র সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন বৈশ্বিক সমস্যা। কোনও দেশই এর ভয়াবহ পরিণাম থেকে সুরক্ষিত নয়। তিনি বলেন, ক্রমাগত জলবায়ু বিপর্যয় বাড়ছে এবং সেগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোকে অপরিবর্তনীয় ক্ষতির শেষ প্রান্ত নিয়ে এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো বৈশ্বিক খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে।

জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার কমিটির (আইপিসিসি) প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আইপিসিসি প্রতিবেদনটি সর্তক বার্তা দিয়েছে আমাদের পৃথিবী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে জরুরি এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। সাম্প্রতিক আইপিসিসি প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথিবীর তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে তাতে মানবসভ্যতা চুড়ান্ত বিপদের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। আর এজন্য মানুষই পুরোপুরি দায়ী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্বলতা এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। কম কার্বন নিঃসরণের পথ অনুসরণ করে জলবায়ু দুর্বলতাগুলোকে জলবায়ু সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে বাংলাদেশ মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

কপ-২৬ সম্মেলনে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম-সিভিএফ এবং কমনওয়েলথের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার জন্য ৬টি সুপারিশ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে, জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষ সম্মেলন কপ-২৬ এ যোগ দিতে গতকাল রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর প্রেস্টউইক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম।

জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষ সম্মেলন কপ-২৬ ছাড়াও ইউনেস্কো-বাংলাদেশ, সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার এবং ইউনেস্কোর ৭৫তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।