ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা

 আদালত প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২১-১০-০৭ , ০৭:৩১ এএম

ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা ছবি: সিটিজেন নিউজ

প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এবার চট্টগ্রামে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের নামে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, পুলিশের বরখাস্ত কর্মকর্তা সোহেল রানাসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে, চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন মোহাম্মদ রেজার আদালতে মামলাটি করেন নুরুল আবছার পারভেজ নামে এক ব্যবসায়ী। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।  

মামলায় আসামিরা হলেন, প্রতিষ্ঠানটির মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শেখ সোহেল রানা, চিফ অপারেটিং অফিসার আমান উল্লাহ, বীথি আক্তার, জায়েদুল ফিরোজ ও ই-অরেঞ্জের সাবেক চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) নাজমুল আলম রাসেল।

ভূক্তভোগী বলেন, ই-অরেঞ্জ সারাদেশে লাখ লাখ গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাদেরকে ছয় মাসের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি দেয়ার কথা বলে দেড় বছরেও তা দেয়া হয়নি। চট্টগ্রামের প্রতারিত গ্রাহকদের টাকা ফেরত চেয়ে আদালতে মামলা করেছি। প্রধানমন্ত্রীও কয়েক দিন আগে প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন এবং প্রতারিতদের অর্থ ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করি, আমরা ন্যায়বিচার পাবো। পণ্য না পেলেও বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ চাইলেন ভূক্তভোগী। 

মামলার অভিযোগ করা হয়, গত ২৭ মের পর থেকে বিভিন্ন সময় পণ্য ক্রয় করার জন্য ই-অরেঞ্জকে অর্থ প্রদান করেন এই গ্রাহকরা। নির্দিষ্ট সময়ের পরও তারা এসব গ্রাহকদের কোনো পণ্য সরবরাহ করেনি। অর্ডার নেয়ার পর থেকে ই-অরেঞ্জ কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে নোটিশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় গ্রাহকদের পণ্য সরবরাহের আশ্বাস দেয়। কিন্তু তারা পণ্য সরবরাহ না করে দেশে প্রায় ১ লাখ গ্রাহকের ১১শ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। আত্মসাৎ করা এ টাকার মধ্যে চট্টগ্রামের নুরুল আবছার পারভেজ, মোর্শেদ সিকদার ও মাহমুদুল হাসান খান নামের তিনজন ব্যবসায়ীর প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

প্রতারণার অভিযোগে এর আগে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত ও কুমিল্লার আদালতেও সোনিয়া মেহজাবিন এবং মাসুকুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ই-অরেঞ্জের প্রতিষ্ঠানটির মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান, কর্মকর্তা আমান উল্লাহ ও সাবেক কর্মকর্তা নাজমুল আলম রাসেল অন্য এক প্রতারণা মামলায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক আছেন।