সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০১৯-০৭-০৮ , ০৭:০২ পিএম
দক্ষিন চট্টগ্রামের একমাত্র রেল যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে কালুরঘাট সেতু। দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে একসময় এই কালুরঘাট সেতুর গৌরবের ইতিহাস থাকলেও, বর্তমানে এই সেতুটি জনআতঙ্কে পরিনত হয়েছে। ধসের আশঙ্কা রয়েছে যে কোনও সময়ে।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তখনকার সময়ে এটি নির্মাণ করে ব্রুনিক এন্ড কোম্পানির হাওড়া ব্রীজ বির্ল্ডাস নামক একটি প্রতিষ্ঠান। সেই সময় থেকে সেতুটি সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে থাকলেও বর্তমানে এটি বোয়ালখালীবাসীর দুঃখ। প্রতিটি মূহুর্তে বোয়ালখালীবাসীসহ সেতুটির উপর দিয়ে চলাচলকারী সবাই যেন সাক্ষাত জমদূতকে সাথে নিয়ে পথ পাড়ি দেন। সেতুটি মূলত রেল চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হলেও, প্রয়োজনের তাগিদে ১৯৫৮ সালে সবধরনের যান চলাচলের জন্য এটি খুলে দেওয়া হয়। সেই থেকেই চলছে।
কালের পরিক্রমায় ২০০১ সালে বিএনপি শাসনামলে এই সেতুটিকে ব্যবহার অনুপযোগী করে তৎকালীণ সরকার। এরপর থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তিনবার সরকার গঠন করে। ক্ষমতায় আসলেও সেতুটি সংস্কার কিংবা নতুন সেতু নির্মাণে কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখতে পায়নি বোয়ালখালীসহ সমগ্র দক্ষিন চট্টগ্রামবাসী। সেতুটির অনেকাংশে পাতাটনের লোহা খুলে গেছে। কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। যার ফলে যে কোন মূহুর্তে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। প্রতিটি মূহুর্তে সেতু ধ্বসসহ মৃত্যু ঝুঁকিকে সাথে নিয়ে লোকজন এই সেতু পাড়ি দেন ।
বহু আগে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ন ঘোষনা করা হলেও, প্রতিদিন রেলের পাশাপাশি সেতুটির ওপর দিয়ে ৫০ হাজারের অধিক যাত্রীসহ ১০ টনের মত ভারী গাড়ী চলাচল করে। যার ফলে অনেকসময় পেন্ডুলামের মত দুলতে থাকে সেতুটি। এই পথে যাতয়াত করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও।
সেতু সমস্যা নিরসনসহ নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা তদবীর করে আসছেন স্থানীয় সাংসদ (চট্টগ্রাম-৮) মাঈন উদ্দীন খান বাদল। সম্প্রতি গত ২৭ জুন সংসদে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি আমার এলাকায় মুখ দেখাতে পারি না। প্রতিদিন এই সেতুর উপর দিয়ে ৫০ হাজার লোক চলাচল করে। আর ৫০ হাজার লোক আমার মৃত মাকে গালি দেয়।আই উইল নট বিয়ার ইট।’ (আমি এটা আর বহন করবো না)
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেতু সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করেতে হবে। নাহয় আই উইল গো আউট ফ্রম দিস পার্লামেন্ট।’(আমি এই সংসদ থেকে চলে যাবো)
এ প্রসঙ্গে সাংসদ বাদল আরও বলেন, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নর্থ কোরিয়ার টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্ট ও বাংলাদেশ সরকারের এক্সর্টানাল রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট (ই আর ডি) চুক্তি করছে। টেন্ডার ডেকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া বাকি। কিন্তু সেটা কেন জানি হচ্ছে না।
এদিকে, সেতু সমস্যা নিয়ে গতকাল শনিবার (৬ জুলাই) রাউজানের আরেক সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী ছেলে ফারাজ করিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে আসেন। ৮ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের লাইভটিতে সাংসদ পুত্র সেতুটি নিয়ে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। যেখানে প্রায় ৫ হাজার ব্যাক্তি কমেন্ট করে তাদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন।
ফারাজ করিম তার লাইভে বলেন, ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ আমলে সেতুটি নির্মাণ করেছে। অর্থাৎ মহাত্মা গান্ধী, সূর্যসেনের আমলের একটি সেতু। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকার এটি নিয়ে কাজ করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এই সেতুটি নির্মাণের জন্য একটি বিলও পাশ করিয়েছেন।
প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে ফারাজ করিম আরও বলেন, ২০০১ সালে এই সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ন ঘোষনা করা হয়েছে। তখন থেকে সেতুটির উপর দিয়ে রেলসহ যাত্রীবাহী বাস এমনকি ৫ টনের জায়গায় দশ টনের মত ভারী যান চলাচল করে। এটি কী করে সম্ভব প্রশাসনকে এমন প্রশ্নও ছুঁড়েন সাংসদ পুত্র।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা রেলপথ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের কমিটির সভাপতি। সেই সুবাধে আমি জানি একটি কোরিয়ান কোম্পানি সেতুটির ফিজিবিলিটি টেস্ট করতেছে। তারা শুধু ডিজাইনটা করে দেবে। এটার জন্য তারা তিনমাস সময় চেয়েছে। উন্নয়ন নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন নেই। তবে কাজের মান নিয়ে ভাবতে হবে। শুনেছি অনেক সময় সেতুটি মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি সেতুর নিছে লোহা ছুটে গেছে। স্লিপারের পাশে বড় বড় গর্ত হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা তদন্ত কমিটি করি। কিন্তু দুর্ঘটনার আগে আমারা কোন পদক্ষেপ নেই না। আমি বিষয়টি নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করছি।
উল্লেখ্য ২০১২ সাল থেকে এই সেতুটি নির্মাণ হবে বলা হচ্ছে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ১১৬৪ কোটি ৯৮ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার ১১৪৬ কোটি টাকা দিবে দক্ষিন কোরিয়ার ইকোনমিক অপারেশন ফান্ড। বাকিটা বহন করবে সরকার। এই নিয়ে ৪টি দেশের বিশেষজ্ঞ টিম জরিপ এবং কোরিয়ান কোম্পানি ফিজিবিলিটি টেস্টও করে গেছে। তবুও অদৃশ্য কোন এক কারনে সেতু নির্মাণ কাজ করছে না সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.