নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২১-০৭-১০ , ০২:৪১ পিএম
ছবি: সিটিজেন নিউজ
চট্টগ্রাম নগরীতে অভিনব ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে ১২ লাখ টাকা গায়েব করার চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হলো না মাষ্টারমাইন্ড সুদীপ্তর।শেষমেষ ঘটনা বিশ্লেষণ করে সেই টাকা উদ্ধার করা হয় সুদীপ্তর কাছ থেকেই!
ঘটনা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পুলিশ গণমাধ্যমকে জানায়, আখতারুজ্জামান সেন্টারের দি সন্দ্বীপ জুয়েলার্সে চাকরি করেন সুদীপ্ত সাহা প্রকাশ টিংকু (৩৫)। শুক্রবার (৯ জুলাই) সকালে এটিএম বুথ থেকে ১২ লাখ টাকা তুলে বাসায় ফিরছিলেন। পথেই ডিবি পরিচয়ে তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। হাত ও চোখ বেঁধে ছিনিয়ে নেওয়া হয় ১২ লাখ টাকা। হুমকি দেওয়া হয় ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর। এরপর বান্দরবানের পাহাড়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে! এভাবেই নিজের ১২ লাখ টাকা ডাকাতির বর্ণনা দেওয়া হলেও বস্তুত ছিল এসব নাটক।
শনিবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টায় ডবলমুরিং থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার মো. আব্দুল ওয়ারীশ। এ সময় অতিরিক্ত উপকমিশনার পংকজ দত্ত, অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসীন।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভির একটি ফুটেজে সন্দেহের তীর ঘুরে যায় কর্মচারী সুদীপ্তর দিকেই! এরপর জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বীকার করেন, নিজেই সরিয়েছেন ১২ লাখ টাকা! মালিককে বিশ্বাস করাতেই সাজিয়েছেন এই নাটক!
ডবলমুরিং থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জানান, টিংকু প্রদীপ বণিকের খুবই বিশ্বস্ত কর্মচারী। তার এটিএম কার্ডের সব পিনই টিংকুর জানা। আগের দিন রাতেই তার ৪টি এটিএম কার্ড টিংকুকে দিয়ে দেন। পরদিন ১২ লাখ টাকা তুলে ১১টায় বাসায় ফেরার কথা তার। কিন্তু দুপুর ২টা পর্যন্ত না আসায় এবং ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার খোঁজ শুরু করেন প্রদীপ।
এরপর ৪টায় ফোন করে সুদীপ্ত জানান, সকাল সাড়ে ১১ টাকার দিকে আগ্রাবাদ সিএন্ডএফ ভবনে অবস্থিত একটি এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে আসার সময় কালো রঙের একটি মাইক্রোবাস তার সামনে থামে। এ সময় নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ৪-৫ জন লোক তাকে গাড়িতে উঠতে বলে। তিনি গাড়িতে উঠতেই তার সঙ্গে থাকা ১২ লাখ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তার কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে মামলা দেওয়ার ভয়-ভীতি দেখায়। একপর্যায়ে গাড়ি বান্দরবানে গিয়ে থামে। সেখানে হাত ও চোখ বেঁধে তাকে পাহাড়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, সুদীপ্ত খুবই চালাক। এ ঘটনা পুলিশকে জানালেও তার কল লোকেশন যেন বান্দরবান আসে সে জন্য নিজেই সেখানে চলে যান! আবার সিসিটিভিতে তার বর্ণিত সেই মাইক্রোবাসও বুথ অতিক্রম করতে দেখা যায়। কিন্তু সেই গাড়িতে তাকে তুলে নেওয়ার তথ্য না পাওয়ায় সন্দেহ জাগে সুদীপ্ত ওপর। এরপর লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটা এলাকায় তার বোনের বাসা থেকে ১১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.