পারকি সৈকতে বর্জ্য পরিস্কার করলেন যুবক ও পর্যটকরা

 আনোয়ারা প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২০-১২-৩০ , ১০:২৫ এএম

পারকি সৈকতে বর্জ্য পরিস্কার করলেন যুবক ও পর্যটকরা ছবি । সিটিজেন নিউজ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ পারকি সমুদ্র সৈকতের বর্জ্যের ভাগাড় পরিস্কার করেছেন স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ তৌহিদুল আলম (৩০) ও সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। পারকি সমুদ্র এলাকার চরে গড়ে উঠা শত বর্জ্যের ভাগাড় পরিস্কার করে পুড়িয়ে দিয়েছেন তারা।

পুরো সৈকত চরের চারিদিকে প্লাস্টিকের বোতল, ছেঁড়া জাল ও সাগরে প্রতিমা বিসর্জনের পর ভাঙা অংশ ও খড়সহ বিভিন্ন ময়লার বর্জ্য পরিস্কার করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ কাজে সহযোগিতা করেছেন ঘুরতে আসা কয়েকজন পর্যটক ও সৈকতের লুসাই পার্কে দায়িত্বরর্ত কর্মচারীরা। কিছুদিন ধরে হঠাৎ করে সৈকতে পর্যটকের আনাগোনা বেড়ে গেলে সকলের চোখে পড়ে আছে হরেক রকমের বর্জ্য। কাঁচের বোতল, রশি, জুতা, ছেঁড়া জাল ও নানা প্রকার প্লাস্টিক। যা সৈকতের পরিবেশকে করেছে দূষিত। এসব বর্জ্য অপসারণে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার তিনি নিজেই পরিস্কারের উদ্যোগ নেন বলে জানান তৌহিদুল আলম।

তিনি বলেন, বীচের পরিবেশ সুন্দর করার জন্য এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। এসব বর্জ্য কীভাবে সৈকতে মানুষ পেলে তা জানা বড়ই কঠিন। আগামীতে সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্যহানী ঠেকাতে সকলে এগিয়ে আশা উচিৎ বলে মনে করছি। সৈকতের দোকানী থেকে শুরু করে ঘুরতে আসা পর্যটকদেরও সচেতন হতে হবে। আমরা নিজেরাই পারি সৈকতকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে। তাহলেই নিজেকে একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে দাবী করা যাবে। সৈকতের বর্জ্য গুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দূর-দুরান্ত থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের প্রত্যাশা একটি পরিচ্ছন্ন সমুদ্র সৈকত। দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিচ ম্যানেজমেন্টের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম না থাকায় এ প্রত্যাশার জায়গাটি দিন দিন সংকীর্ণ হয়ে আসছে। সৈকত জুঁড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিয়েছে। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার ও শনিবার বন্ধের সময় বাড়ে পর্যটকের সংখ্যা। অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে বিরক্ত পর্যটকরা। সৈকতের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় ডাবের ছোবড়া, খড়ের স্তুপ, চিপসের খালি প্যাকেটসহ নানা ধরনের আবর্জনা জমে আছে। এসব কারণে সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকেরা সৈকতে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করতে পারেন না।

স্থানীয় বারশত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ূম শাহ বলেন, তৌহিদকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি সৈকতের বর্জ্য গুলো নিজ উদ্যোগে পরিস্কার করার জন্য। দেশের পর্যটক প্রেমীদের কাছে একটি জনপ্রিয় স্থান পারকি সমুদ্র সৈকত। করোনা পরিস্থিতির কারণে সৈকত পরিচ্ছন্ন কর্মীরা কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। শীঘ্রই পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগ দিয়ে পরিচ্ছন্ন কাজ শুরু করা হবে।

পারকি বিচ ম্যানেজমেন্টের সভাপতি ও আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, আসলে প্রংশাসার দাবীদার সে। করোনা পরিস্থিতির কারণে সৈকতে পর্যটকদের আসা দীর্ঘদিন বন্ধ ছিলো। এ সপ্তাহের মধ্যে সৈকতে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে।