স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যাচ্ছেন আরও ১৭৭২ রোহিঙ্গা

 সিটিজেন নিউজ ডেস্ক:
আপডেট: ২০২০-১২-২৯ , ১০:২৯ এএম

স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যাচ্ছেন আরও ১৭৭২ রোহিঙ্গা ছবি । সিটিজেন নিউজ

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে মানবিক আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের একটি দল স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে রাজি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে এক হাজার ৭৭২ জনের রোহিঙ্গাদের এই দল নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ভাসানচরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে গত দু'মাস ধরেই চলছে নানা ষড়যন্ত্র। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যেমন এর বিরোধিতা করছে, তেমনি নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে দেশি-বিদেশি নানা সংস্থা। এর মাঝে দ্বিতীয় দফায় স্বপ্রণোদিত হয়ে ভাসানচর যেতে কক্সবাজারের আশ্রয় শিবির ত্যাগ করেছেন ১ হাজার ৭৭২ জন রোহিঙ্গা। ৪২৭টি পরিবারের এসব রোহিঙ্গা সোমবার দুপুরেই বাসযোগে কক্সবাজার ছেড়ে চট্টগ্রাম আসেন।

সরকারি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় দফায় যেসব রোহিঙ্গা ভাসানচর যাচ্ছেন এর মধ্যে ১৩০ জনের বেশি রয়েছে যারা প্রথম দফায় যাওয়া রোহিঙ্গাদের স্বজন। গত ২ ডিসেম্বরর প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ভাসানচর যান। তারাই সেখান থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে ভাসানচরের পরিস্থিতি দেখিয়ে স্বজনদের আসতে উদ্বুদ্ধ করে।

রাতে নগরীর পতেঙ্গা এলাকার বিএফ শাহীন কলেজে অবস্থানের পর সকালেই জাহাজযোগে এসব রোহিঙ্গা ভাসানচরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। বাংলাদেশ সরকার ১ লাখ রোহিঙ্গার জন্য নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরের পরিকল্পিত আবাসনসহ আধুনিক সব জীবন-যাত্রার ব্যবস্থা করে রেখেছে। পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত রোহিঙ্গাদের এখানে স্থানান্তর করা হবে।

গত ২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নিপীড়নের মুখে দেশটি থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা  পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। একই বছরের নভেম্বর মাসে কক্সবাজার থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেয় সরকার।

আশ্রয়ণ-৩ নামে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।

কিন্তু ২০১৮ সালে যখন প্রথম তাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়, তখন থেকেই সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছিল রোহিঙ্গারা।