সকল হত্যাকাণ্ড-হামলার বিচার দাবি বাকবিশিস'র

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৫-১২-২১ , ০৮:২৮ পিএম

সকল হত্যাকাণ্ড-হামলার বিচার দাবি বাকবিশিস'র ছবি: নাগরিক পত্রিকা

রিফ উসমান হাদীকে গুলি করে হত্যা, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ঢাকায় উদীচী, ছায়ানট, দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ এবং ময়মনসিংহে প্রকাশ্যে গাছে ঝুলিয়ে এক যুবককে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)৷

একই সাথে এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি।

রবিবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দিনে-দুপুরে ঢাকার রাজপথে প্রকাশ্যে গুলি করে শরিফ উসামন হাদীকে হত্যার ঘটনা পুরো দেশবাসীকে নাড়া দিয়েছে। বিবেকমান মানুষ মাত্রই এতে শোকগ্রস্ত হয়েছেন, হত্যার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। বাকবিশিস এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে হাদীকে মৃত ঘোষণার পর দুষ্কৃতীকারীরা সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে পুঁজি করে ঢাকায় অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। দেশের দুটি শীর্ষ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয় আগুন দিয়ে ভস্মীভূত করা হয়েছে। অনেক সাংবাদিক, গণমাধ্যম কর্মী সেই আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছিলেন। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়। সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের কার্যালয়ও আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে। এরপর শুক্রবার রাতে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচীর কার্যালয়েও আগুন দেওয়া হয়েছে। হাদীর দুঃখজনক মৃত্যুর পর মব তৈরি করে এমন বীভৎস, নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞে দেশের মানুষ স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে। ওসমান হাদীর মৃত্যুর সঙ্গে প্রথম আলো-ডেইলি স্টার কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত মুক্তিবুদ্ধি চর্চার প্রতিষ্ঠান ছায়ানট-উদীচী কীভাবে জড়িত কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন লক্ষ্যবস্তু করা হল, সেটাই দেশের জনগণের কাছে দুর্বোধ্য ঠেকছে।

একই সময়ে দেখা গেছে, ময়মনসিংহে কথিত ধর্ম অবমাননার অজুহাত তুলে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে মব সৃষ্টির মাধ্যমে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে প্রকাশ্যে বিকৃত উল্লাস করতে করতে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। একটি সভ্য সমাজে এমন বর্বর হত্যাকাণ্ড কল্পনাও করা যায় না। এই ঘটনায় দেশের বিবেকবান মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে।

বাকবিশিস নেতারা আরো উল্লেখ করেন, দুঃখের বিষয় হচ্ছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টার ধরে এসব বিভৎস বর্বরতা চললেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বরাবরের মতোই নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করে চলেছে। সরকার এই ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। আমরা দেখতে পাচ্ছি, অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতায় ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া এই দেশ আজ উগ্রবাদের চারণভূমি হতে চলেছে। নেতৃবৃন্দ সরকারের কাছে সারাদেশে গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সকল প্রগতিশীল সংগঠন এবং সর্বস্তরের নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানের জোর দাবি জানান।

বাকবিশিস নেতারা মবতন্ত্র, সহিংস উগ্রবাদের লাগাম টেনে ধরার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। তাঁরা উল্লেখ করেন এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না। বাকবিশিস নেতারা সরকারের প্রতি আহবান জানান, ঘোষিত সময়ে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণই দেশকে এই সংকট থেকে মুক্ত করতে পারবে বলে নেতৃবৃন্দ মনে করেন।