আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট: ২০২৫-১১-৩০ , ০৯:৩৪ এএম
ছবি: আন্তর্জাল
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর দেশটিতে আশ্রয় সংক্রান্ত সব ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে কোনো আশ্রয় আবেদন অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান বা বন্ধ; কোনোটিই এখন থেকে কার্যকর করা যাচ্ছে না।
শুক্রবার মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) পরিচালক জোসেফ এডলো এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। তার ভাষায়, প্রতিটি বিদেশির সর্বোচ্চ মাত্রার নিরাপত্তা যাচাই নিশ্চিত করতেই এই বিরতি।
এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সব ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন ‘স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করবেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে গুলিতে আহত ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের একজন মারা গেছেন। হামলার জন্য আফগান বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়েছে। ওই হামলার পর থেকেই হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একটি দপ্তর ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন কোনো আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তি না করেন। আবেদন প্রক্রিয়ার কাজ এগোলেও ‘সিদ্ধান্তের পর্যায়ে’ পৌঁছালে তা স্থগিত রাখতে হবে
শুক্রবার দেওয়া নির্দেশনা এবং ট্রাম্পের আগের বক্তব্য থেকে কোন কোন দেশ থেকে আশ্রয় আবেদন নেওয়া হবে না, তা এখনও অস্পষ্ট। ট্রাম্প জানাননি কোন দেশগুলোকে তৃতীয় বিশ্ব তালিকায় বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পদক্ষেপ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এবং জাতিসংঘ ইতোমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনকে আন্তর্জাতিক শরণার্থী চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের উপ-মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশকে ১৯৫৩ সালের শরণার্থী কনভেনশনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে। অবৈধ অভিবাসীদের গণবহিষ্কার, শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা কমানো, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রচলিত অধিকার বাতিলের উদ্যোগসহ একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বুধবারের ঘটনার পর ট্রাম্প এক ঘোষণায় বলেন, যেকোনো দেশের এমন সব বিদেশিকে আমরা বহিষ্কার করব, যারা এখানে থাকার যোগ্য নয়।
এছাড়া নিরাপত্তা যাচাই পুনর্বিবেচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র আফগান নাগরিকদের সব অভিবাসন আবেদনও স্থগিত করেছে। ইউএসসিআইএস জানায়, ১৯টি দেশের গ্রিন কার্ড আবেদন পুনঃপর্যালোচনা করা হবে।
ওয়াশিংটনের গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত রহমানুল্লাহ লাখানওয়াল ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বিশেষ অভিবাসন কর্মসূচির আওতায়, যা মূলত আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিদের সুরক্ষা দিতে প্রণয়ন করা হয়েছিল।
সিআইএ জানিয়েছে, লাখানওয়াল সংস্থাটির সঙ্গেও কাজ করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ও সংস্থার কাজে যোগদানের আগে উভয় পর্যায়ে তার ব্যাপক যাচাই করা হয়েছিল।
লাখানওয়ালের এক বন্ধু নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, তিনি দীর্ঘদিন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন, যা এ বছর অনুমোদিত হয়। তবে তার গ্রিন কার্ড আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
হামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না বলে জানানো হয়েছে। ট্রাম্প ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বুধবারের ওই হামলায় ২০ বছর বয়সী সারা বেকস্ট্রম মারা গেছেন। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার এই তরুণী ট্রাম্পের অপরাধ দমন অভিযানের অংশ হিসেবে ডিসিতে মোতায়েন ছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানান, থ্যাঙ্কসগিভিং ছুটির সময় তিনি স্বেচ্ছায় সেখানে দায়িত্ব পালনে যান।
আরেক সদস্য, ২৪ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু উলফ, গুরুতর আহত অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.