আজ পবিত্র শবেবরাত

 নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২৫-০২-১৪ , ১২:২০ পিএম

আজ পবিত্র শবেবরাত

ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত, আর ‘বরাত’ অর্থ সৌভাগ্য বা মুক্তি। আরবিতে বলে ‘লাইলাতুল বরাত’। আজ সেই মুক্তির রাত বা সৌভাগ্যের রাত। হিজরি সনের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে সৌভাগ্যের রাত বা মুক্তির রাত হিসেবে পরিচিত।

এই রাতে বান্দাদের জন্য অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন আল্লাহ তাআলা। বাংলাদেশে আজ শুক্রবার রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে।

মহিমান্বিত এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময় মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভের আশায় নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মগ্ন থাকেন। অতীতের পাপ ও অন্যায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করেন।

তাঁরা মহান আল্লাহর কাছে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, সমাজ-রাষ্ট্র এবং পুরো বিশ্বের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্যও দোয়া করেন।

পবিত্র শবেবরাতকে কেন্দ্র করে বাড়িতে বাড়িতে হরেক রকমের হালুয়া, ফিরনি, রুটিসহ উপাদেয় খাবার তৈরি করার প্রচলন রয়েছে। এসব খাবার আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যার পর অনেকে কবরস্থানে যান এবং আপনজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

এই রাতের বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা মধ্য শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তাঁর সৃষ্টিজগতের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করেন।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৬৬৫)

পবিত্র শবেবরাত মুসলমানদের কাছে পবিত্র রমজানের আগমনী বার্তাও নিয়ে আসে। শাবান মাসের পরে আসে পবিত্র রমজান মাস। তাই শবেবরাত থেকেই কার্যত রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।

পবিত্র শবেবরাতের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ায় আত্মনিয়োগের আহবান প্রধান উপদেষ্টার

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পবিত্র শবেবরাতের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানব কল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি এই আহবান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আসুন, সব ধরনের অন্যায়, অনাচার, হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সব স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।’

তিনি পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে বলেন, এই সৌভাগ্যময় রজনী মানবজাতির জন্য বয়ে আনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমত ও বরকত। এই রাতে আল্লাহ পাক ক্ষমা প্রদান এবং প্রার্থনা পূরণের অনুপম মহিমা প্রদর্শন করেন।