অদ্ভুত রংয়ের আকাশের দেখা মিলল রাজশাহীতে

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২২-১০-২৫ , ০৭:১১ এএম

অদ্ভুত রংয়ের আকাশের দেখা মিলল রাজশাহীতে ছবি: নাগরিক পত্রিকা

রাজশাহীতে গাঢ় লাল আকাশ দেখা গেছে প্রায় ২০ মিনিট। সোমবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর এমন অদ্ভুত লাল আকাশের দেখা মিলেছে। এমনিতেই সারাদিন উত্তরের ঝড়ো হাওয়াসহ কালো সাদা মেঘে ভরা ছিল রাজশাহীর আকাশ। 

সূর্য ডুবে যাওয়ার পর সেই মেঘমালায় আলো প্রতিফলিত হওয়ায় এমন দেখাচ্ছিল। ঝড়ের প্রভাবে আকাশে এখনো মেঘের ঘনঘটা রয়েছে। তবে বৃষ্টি তুলনামূলক দক্ষিণাঞ্চলের চেয়ে কম। অভূতপূর্ব এমন রাঙা আকাশ দেখে অনেকেই এর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন।

সূর্য অস্ত যাবার পরও তার আলো উঁচু আকাশে রয়ে যায়। সেখানে মেঘমালায় জমা বৃষ্টির বিন্দুতে তখনও সূর্যের আলো প্রতিফলিত হওয়ায় এমন লাল আকাশের দেখা মিলেছে। অন্তত সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত এমন লাল আভা ছিল বলে জানা গেছে।

অদভুত এমন লাল আকাশ নিয়ে দেশের কোনও বিষেশজ্ঞদের মতামত পাওয়া না গেলেও ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জ্যোতির্বিজ্ঞানী বক্তব্য তুলে ধরে তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে- সম্প্রতি পৃথিবীর কোনও কোনও জায়গায় সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সময়টাতে নানা রংয়ের বিচ্ছুরণ আকাশকে অপূর্ব দৃশ্যময় করে তুলেছে। আকাশে এখন লাল সূর্য আর রংয়ের খেলা দেখা যাচ্ছে আগের তুলনায় বেশি।

আকাশে এমন অপরূপ দৃশ্যের একটা ব্যাখ্যা হল র‌্যালে স্ক্যাটারিং- পদার্থবিদ র‌্যালের নীতি অনুযায়ী বিচ্ছুরিত আলো ভেঙে ছড়িয়ে পড়া।

গ্রেনিচের রয়াল মিউজিয়ামের জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড ব্লুমার বলেন, "এটা হল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল দিয়ে সূর্যের আলো যখন প্রবাহিত হয়, তখন সেটা যেভাবে আমাদের চোখে ধরা দেয়।

বিষয়টা বুঝতে গেলে প্রথমে আলোর উপাদানটা জানতে হবে। আমরা চোখে যে আলো দেখি তাতে আমরা জানি সাতটা রং আছে- লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, গাঢ় নীল ও বেগুনি।

ব্লুমার বলেন, "সূর্যের রংয়ের ক্ষেত্রে এই হেরফের ঘটে যখন সূর্যালোক ভেঙে ছড়িয়ে যায়। যখন আলোর কণাগুলো ভাঙে সেগুলো সমানভাবে ভাঙে না, ভাঙে এলোমেলোভাবে।"

আলোর মধ্যে প্রত্যেকটা রংয়ের ওয়েভলেংথ বা তরঙ্গদৈর্ঘ্য আলাদা আর সেকারণেই তাদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনুযায়ী তাদের রংয়ের তীব্রতায় কম-বেশি হয়।

যেমন বেগুনি রংয়ের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, আর লালের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। ফলে কোন্ রং কোন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে প্রবাহিত হচ্ছে তা নির্ধারণ করবে আমরা কীভাবে সেই রংগুলোর বিচ্ছুরণ প্রত্যক্ষ করব।

এরপর আমাদের আবহাওয়া মণ্ডলের বিষয়টা বুঝতে হবে। যে আবহাওয়ামণ্ডল বা বায়ুমণ্ডলে রয়েছে নানাধরনের গ্যাসের স্তর, যার মধ্যে রয়েছে অক্সিজেনও, যেটাতে আমরা শ্বাস নিই এবং যেটা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।

সূর্যের আলো যখন বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তা বেঁকেচুরে এবং ভেঙে যায়, যেন একটা প্রিজম বা ত্রিভুজাকৃতি স্ফটিকের মধ্যে দিয়ে সেটা যাচ্ছে। এর কারণ বায়ুমণ্ডলে যেসব গ্যাস রয়েছে, তার প্রতিটার ঘনত্ব আলাদা।

এছাড়াও বায়ুমণ্ডলে অন্যান্য যেসব কণা রয়েছে, সেগুলোর কারণে ভেঙে যাওয়া আলোর কণাগুলোর প্রতিফলন তৈরি হয়।

সূর্য যখন অস্ত যায় বা ওঠে, তখন সূর্য রশ্মি আবহাওয়া মণ্ডলের সবচেয়ে উপরের স্তরে একটা বিশেষ কোণ থেকে ধাক্কা মারে এবং সেখান থেকেই শুরু হয় সূর্যের আলোর "ম্যাজিক"।

সূর্যরশ্মি এরপর যখন উপরের স্তর ভেদ করে ভেতরে ঢোকে, তখন সেই স্তর নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে শুষে নেয় না, বরং সেটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে প্রতিফলিত হয়।

ব্লুমার বলেন, "সূর্য যখন দিগন্তের নিচের দিকে অবস্থান করে, তখন নীল আর সবুজ রং ভেঙে যায় এবং আমরা কমলা এবং লাল রং-এর আভা দেখতে পাই।

এর কারণ, আলোর যে রংগুলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট (যেমন বেগুনি এবং নীল) সেগুলো বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো যেমন কমলা এবং লালের চেয়ে বেশি ভেঙে যায় এবং এরফলে আকাশে নানা রংয়ের আলোর অসাধারণ বিচ্ছুরণ আমরা দেখি।