নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২০-১০-০৩ , ০৯:২৯ এএম
ছবি: সিটিজেন নিউজ
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় আদালতে তিন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। দোষ স্বীকার করে মামলার এক নম্বর আসামি সাইফুর রহমান, চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্কর এবং পাঁচ নম্বর আসামি রবিউল ইসলাম পৃথক আদালতে এই জবানবন্দি দেয়।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে নিয়ে আসা হয়। জবানবন্দি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেটের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার অমূল্য কুমার চৌধুরী।
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ পাহারায় আসামিদের আদালতে নিয়ে আসা হয়। এ দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড শেষ করেন আদালতের বিচারক। আসামি সাইফুর ও অর্জুন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জিয়াদুর রহমানের কাছে ধর্ষণের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
জবানবন্দি প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় মামলার এজাহার নামীয় আসামি রবিউল ইসলাম রাত ৭টার দিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দ্বিতীয় বিচারক সাইফুর রহমানের কাছে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে।
শনিবার (০৩ অক্টোবর) অপর তিনি আসামি মাহবুবুর রহমান রনি, আইনুদ্দিন, রাজ চৌধুরী রাজনকে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
অমূল্য কুমার চৌধুরী জানান, সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম ধর্ষণের ঘটনায় দোষ স্বীকার করে আদালতে প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা জবানবন্দি প্রদান করে। এ সময় তারা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আসামিদের আদালতে নিয়ে আসার পর তিন ঘণ্টা করে সময় দেয়া হয় প্রত্যেককে। এরপর একে একে প্রায় দেড় ঘণ্টা করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে। দোষ স্বীকার করার সময় আসামিরা স্বাভাবিকভাবে সবকিছু বর্ণনা দেয়। তারা ধর্ষণের সঙ্গে কারা জড়িত ছিল তাদের নাম আদালতকে জানানোর পাশাপাশি কার কী ভূমিকা ছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক দম্পতি নিজেদের গাড়ি নিয়ে এমসি কলেজ এলাকায় বেড়াতে যান। সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশেই কলেজটির অবস্থান। ১২৮ বছরের পুরনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরের মাঠে অনেকেই বেড়াতে যান। এক দল তরুণ স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই গাড়িসহ জোর করে ছাত্রাবাসের দিকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গাড়ির ভেতরেই সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী শাহপরারণ থানায় ছয় জনকে এজাহার নামীয় আসামি এবং আরো দু-তিন জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.