আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট: ২০২৬-০২-২২ , ১০:৪৪ এএম
ছবি: নাগরিক পত্রিকা
সাম্প্রতিক একাধিক আত্মঘাতী হামলার জেরে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সীমান্তবর্তী দুটি প্রদেশে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় মাদ্রাসায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে এবং নানগারহার প্রদেশেও আক্রমণ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং এর সহযোগীদের সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানায় ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অভিযান’ চালিয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর একটি সহযোগী গোষ্ঠীও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের কাছে ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ রয়েছে যে ইসলামাবাদ এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাজাউর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলাগুলো আফগানিস্তানে অবস্থানরত টিটিপি নেতাদের নির্দেশ ও সহায়তায় চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পাকিস্তান বারবার তালিবান সরকারকে আফগান ভূমি ব্যবহার করে হামলা বন্ধের অনুরোধ করলেও কাবুল টিটিপির বিরুদ্ধে কোনো ‘কার্যকর পদক্ষেপ’ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
পাকিস্তান বলেছে, তারা সবসময় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, তবে নাগরিকদের নিরাপত্তা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
পাকিস্তানের এই বিমান হামলাটি এমন সময়ে এলো যখন উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা কনভয়ে আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সৈন্য নিহত হন। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই পাকিস্তান এই ব্যবস্থা নিল।
এছাড়া গত সোমবার বাজৌরে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলা চালায় এক আত্মঘাতী। এতে ১১ জন সৈন্য এবং এক শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে জানায় যে, হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক ছিল।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকার খাদিজা তুল কুবরা মসজিদে জোহরের নামাজের সময় এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন মুসল্লি নিহত এবং ১৭০ জন আহত হন। ইসলামিক স্টেট এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তালেবানদের ২০২০ সালের দোহা চুক্তির প্রতিশ্রুতি পালনে চাপ দেওয়া হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, আফগান ভূমি অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তালেবান।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সহিংসতা অনেক বেড়েছে, যার জন্য মূলত টিটিপি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়। ইসলামাবাদ দাবি করে আসছে, টিটিপি আফগানিস্তান থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যদিও টিটিপি এবং তালিবান সরকার উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত বছরের অক্টোবর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। সেসময় সীমান্ত সংঘর্ষে দুই দেশের অনেক সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তুরস্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.