নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৬-০২-১১ , ০৮:১৭ এএম
ছবি: নাগরিক পত্রিকা
কোথাও সংঘাত হলেই কঠোর অবস্থানে যাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেনা সদর থেকে। সারা দেশে ৩ হাজারের বেশি মানুষের একটি তালিকা তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরা নির্বাচনের কেন্দ্রে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। তাদের ওপর বিশেষ নজর থাকবে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের। গতকাল মঙ্গলবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনা সদস্যদের টহল দেখা গেছে। ঢাকার আজিমপুর এলাকায় সেনা সদস্যরা বিশেষ মহড়া দিয়েছেন।
নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য মাঠে নেমেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য। এর মধ্যে সারা দেশে ৮ হাজার ৭৪৬টি ভোটকেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্রে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন ব্যক্তিদেরও গ্রেফতারের আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এখন যাদের গ্রেফতার করা হবে তাদের নির্বাচনের আগে ছাড়া হবে না।
জানা গেছে, এবার বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন, সেনাবাহিনী ১ লাখ ৩ হাজার, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বিমান বাহিনী ৩ হাজার ৭৩০, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ জন, চৌকিদার দফাদার ৪৫ হাজার ৮২০ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে।
ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির আশঙ্কায় এসব এলাকাকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সূত্র জানায়, নির্বাচনে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোয় ২৫ হাজার ৫০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ক্যামেরায় সিম কার্ড সংযুক্ত থাকবে। কোনো ভোটকেন্দ্রে গোলমাল শুরু হলে এসওএস বা জরুরি বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে এসব ক্যামেরা থেকে সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে। সার্বক্ষণিক লাইভ ছবি ও ভিডিও দেখার ব্যবস্থা আছে। বাকি প্রায় ১০ হাজার ক্যামেরা থাকবে অফলাইন। এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পরে প্রয়োজনে যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে। এই ক্যামেরাগুলোর বিতরণ ও ব্যবহারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি)। তাদের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত হবে কোন কেন্দ্রে কতটি ক্যামেরা যাবে, কোথায় অনলাইন আর কোথায় অফলাইন ব্যবস্থাটি ব্যবহার করা হবে। স্থানীয় ঝুঁকি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির কোনো শঙ্কা নেই। তিনি বলেন, কোথাও কারচুপির খবর পেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নেব। ভারতীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রচুরসংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তের আট কিলোমিটার এলাকায় সেনাবাহিনী যায় না। তবে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী পাঠানো হবে।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ করতে মাঠে থাকছেন ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটও। তারা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে আছে। রবিবার থেকে আরো যুক্ত হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা ভোটের আগে-পরে সাত দিন থাকবে। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। ইসির কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেলও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে, সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তথ্যও পাবে ইসি। শঙ্কাহীন নির্বিঘ্ন ভোটের পরিবেশের জন্য যা যা দরকার, সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা সবাই বলেছে যে মাঠের অবস্থা, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভালো এবং নির্বাচনের জন্য সহায়ক আছে।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.