নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৬-০২-০৭ , ০১:২৭ পিএম
ছবি: নাগরিক পত্রিকা
পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বাহারুল আলম কূটনৈতিক মর্যাদার (লাল) পাসপোর্ট বদল করে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে চান। সম্প্রতি তিনি সরকারি পাসপোর্ট সমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন।
পুলিশের কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা এমন আশঙ্কা করেন, নির্বাচনের পরপরই তিনিও দেশ ছাড়তে পারেন। কেননা, নির্বাচনের আগেই তাকে সরিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক দল থেকে জোর দাবি তোলা হয়।
তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে খোদ আইজিপির পাসপোর্ট সমর্পণের এ খবরে প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। চুক্তির মেয়াদ ৮ মাস বাকি থাকতে কেন তিনি এখনই সাধারণ পাসপোর্ট নিতে চান তা নিয়ে সচিবালয়সহ পুলিশ সদর দপ্তরেও নানা আলোচনা ডালপালা মেলছে।
এদিকে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন প্রাপ্তির বিধিনিষেধ ছাড়াই খুব সহজে সরকার সংশ্লিষ্টরা যাতে লাল পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে পারেন সেজন্য সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পূর্বের এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সংশোধন করে স্পষ্টীকরণের নামে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে এ সরকারের আমলে ইতোঃপূর্বে জারি করা বিধিনিষেধ সাবেক সরকারের কূটনৈতিক পাসপোর্টের জন্য বহাল রেখে বর্তমান সরকারের জন্য শিথিল করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, বাহারুল আলম নিজেই তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর জন্য পত্র দেন। এ বিষয়ে অনাপত্তি (এনওসি) চেয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছেন।
এতে বলা হয়-‘আমি বাহারুল আলম ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বাংলাদেশ, আমার ব্যবহৃত কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণপূর্বক সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। বর্ণিত কূটনৈতিক পাসপোর্টের পরিবর্তে সাধারণ পাসপোর্ট প্রাপ্তির জন্য অনাপত্তি সনদ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।’
রক্তাক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া বিশৃঙ্খল পুলিশ বাহিনীকে নেতৃত্ব দিতে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি বাহারুল আলমকে অবসর থেকে চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হয়। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর তাকে পুলিশ প্রধান হিসাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার।
চলতি বছর ২০ নভেম্বর পর্যন্ত তার চাকরির মেয়াদ রয়েছে। এর আগে ৭ আগস্ট অতিরিক্ত আইজিপি মইনুল ইসলাম ৩০তম আইজিপি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চুক্তির বর্ধিত মেয়াদ পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বাতিল না করলে বাহারুল আলমের আরও ৮ মাস স্বপদে বহাল থাকার কথা। অথচ মেয়াদপূর্তির অনেক আগে পুলিশ প্রধানের সরকারি পাসপোর্ট সমর্পণের খবরে স্বাভাবিকভাবে নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা এমন আশঙ্কা করেন, নির্বাচনের পরপরই তিনিও দেশ ছাড়তে পারেন। কেননা, নির্বাচনের আগেই তাকে সরিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক দল থেকে জোর দাবি তোলা হয়। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আনুকূল্যে নির্বাচন পর্যন্ত তার চুক্তির মেয়াদ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে সৃষ্ট এই প্রেক্ষাপটে আইজিপির পাসপোর্ট সমপর্ণের একটি বিশেষ যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়।
এদিকে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে বৃহস্পতিবার আইজিপির হোয়াটসঅ্যাপে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন পাঠানো হলে তিনি পালটা প্রশ্ন করে লেখেন ‘কি প্রশ্ন উঠেছে।’ এরপর প্রতিবেদক জানতে চান, ‘অনেকে বলছেন আপনি হয়তো নির্বাচনের পর তড়িঘড়ি করে দেশ ছাড়তে পারেন। এ কারণে সাধারণ পাসপোর্ট নিয়ে রাখছেন।’ তবে পরে তিনি আর কোনো প্রত্যুত্তর দেননি। সূত্র: যুগান্তর
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.