আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট: ২০২৬-০১-২১ , ১২:১৩ পিএম
ছবি: আন্তর্জাল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি আরও জোরালো করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পথ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পিছু হটার সুযোগ নেই’ এবং ‘গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য তিনি কত দূর যেতে প্রস্তুত। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আপনারা শিগগির জানতে পারবেন।’
এদিকে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এখন ‘নিয়মবিহীন এক ব্যবস্থার দিকে সরে যাচ্ছে।’ একই অনুষ্ঠানে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ‘পুরোনো বিশ্বব্যবস্থা আর ফিরে আসছে না।’
ট্রাম্পের আজ বুধবার দাভোসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সেখানে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ‘অনেক বৈঠকের সময়সূচি রয়েছে।’ দীর্ঘ সংবাদ ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে ‘সবকিছু বেশ ভালোভাবেই কাজ করবে।’
বিবিসির পক্ষ থেকে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, গ্রিনল্যান্ড পাওয়ার বিনিময়ে ন্যাটো জোট ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তিনি নিতে রাজি কি না। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘ন্যাটোকে আমি যতটা সাহায্য করেছি, আর কেউ করেনি, সব দিক থেকেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ন্যাটো খুশি থাকবে, আমরাও খুশি থাকব। বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য আমাদের এটা দরকার।’
তবে এর আগেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রয়োজন হলে ন্যাটো কি যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি জানি আমরা ন্যাটোর সাহায্যে ছুটে যাব, কিন্তু সত্যি বলতে আমি সন্দেহ করি—ওরা কি আমাদের সাহায্যে আসবে?’
উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা ন্যাটোর বর্তমানে ৩২টি সদস্যরাষ্ট্র রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই জোটের ১২টি প্রতিষ্ঠাতা দেশের একটি। সমষ্টিগত প্রতিরক্ষার মাধ্যমে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত ন্যাটোর অন্যতম মূলনীতি হলো অনুচ্ছেদ ৫। এতে বলা আছে, কোনো এক বা একাধিক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। এনবিসি নিউজ তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন কি না, উত্তরে বলেন, ‘নো কমেন্ট।’ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিবিসি নিউজনাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রিনল্যান্ডের শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক মন্ত্রী নাজা নাথানিয়েলসেন বলেন, প্রেসিডেন্টের দাবিতে গ্রিনল্যান্ডবাসী ‘হতবাক।’
নাথানিয়েলসেন বলেন, ‘আমরা আমেরিকান হতে চাই না, এবং বিষয়টি আমরা খুব পরিষ্কারভাবেই বলেছি।’ তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি আর আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে আপনি কতটা মূল্য দেন?’
মঙ্গলবার ছিল দাভোস ফোরামের প্রথম দিন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়ন এক বক্তব্যে সরাসরি বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার প্রশ্নে ইউরোপ ‘সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কেবল যৌথভাবে কাজ করলেই সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পের প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ককে ‘একটি ভুল’ বলে অভিহিত করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের আটটি দেশ থেকে আমদানি করা ‘সব ধরনের পণ্যের ওপর’ ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ভন ডার লেয়ন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক রাজ্যের পাশে ‘পূর্ণ সংহতি’ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের সার্বভৌমত্ব ‘আলোচনার বিষয় নয়।’
তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেন, ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর প্রতি তাঁর দেশের অঙ্গীকার ‘অটল।’ কার্নি বলেন, ‘আমরা গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি এবং গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের তাদের স্বতন্ত্র অধিকারকে সম্পূর্ণ সমর্থন করি।’ মাখোঁ তাঁর বক্তব্যে বলেন, তিনি ‘দাদাগিরির বদলে সম্মান’ এবং ‘নিষ্ঠুরতার বদলে আইনের শাসন’ পছন্দ করেন।
এর আগে মঙ্গলবারই ট্রাম্প ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। মাখোঁ নাকি গাজার জন্য প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন—এমন প্রতিবেদনের পরই এই হুমকি আসে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট নতুন নতুন শুল্ক আরোপের ‘অবিরাম প্রবণতাকে মৌলিকভাবে অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানান, বিশেষ করে যখন তা ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্বের ওপর চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাখোঁসহ অনেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে তথাকথিত ‘অ্যান্টি-কোয়েরশন ইনস্ট্রুমেন্ট’, যা ‘ট্রেড বাজুকা’ নামেও পরিচিত।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করার পরিকল্পনা করছে। এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.