আদালত প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৬-০১-১৯ , ০৪:২৪ পিএম
ছবি: নাগরিক পত্রিকা
সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহর জন্য স্থগিত করেছে হাই কোর্ট।
ভিপি পদপ্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিনজনের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার এ আদেশ দেয় বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর মঙ্গলবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ভোটের প্রস্তুতি গুছিয়ে আনার মধ্যে নির্বাচন স্থগিতের খবর পেল দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শিক্ষালয়টি।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল, রাশনা ইমাম, মনিরুজ্জামান আসাদ, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, গাজী তৌহিদুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান খান, আব্দুল্লাহ আল মাহবুবসহ প্রায় অর্ধশত আইনজীবী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ হোসাইন লিপু। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
রিটকারীদের আইনজীবী মনিরুজ্জামান আসাদ জানান, স্বতন্ত্র ভিপি পদপ্রার্থী, এক সদস্য পদপ্রার্থী ও আরেকজন সাধারণ ছাত্র মিলে রিট মামলাটি করেছেন।
তিনি বলেন, “শাকসুর ইলেকশনের শিডিউলটা ছিল ১৬ নভেম্বরের – প্রথমে ১৬ তারিখে দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে নভেম্বরের ২৪ তারিখে আবার রিশিডিউল ডিক্লেয়ার করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো যে যেখানে জাতীয় নির্বাচন সামনে আছে এবং শুধুমাত্র এই শাকসুর ইলেকশনটাই শিডিউল ছিল না। সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, বিভিন্ন সংগঠনের ইলেকশন – কোনোটা জানুয়ারির ৫ তারিখে ছিল, ১২ তারিখ ছিল, ১৫ তারিখ ছিল, ২০ তারিখ ছিল, ২৫ তারিখে ছিল, ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ পর্যন্ত ছিল অনেক জায়গায় ইলেকশন। সেগুলো কিন্তু সবাই স্থগিত করেছে; এই ১২ তারিখের নির্বাচন কমিশনের চিঠি পাওয়ার পরে সবাই কিন্তু স্থগিত করেছেন।”
মনিরুজ্জামান আসাদ বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৫ তারিখে চিঠি দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে বলেছে যে, আপনারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে নির্বাচনটা করেন। যে চিঠিটাও আমরা এখানে এনক্লোজ করে দিয়েছি।
“কাজেই সারা বাংলাদেশে যখন সমস্ত শিডিউলড ইলেকশনগুলো স্থগিত করেছে, সেখানে এটা মানে ইন্টারেস্টটা কী আছে নির্বাচন কমিশনের, সে কারণেই আসলে আমাদের রিট ফাইল করা।”
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য গত ১৬ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। শুরুতে ভোটগ্রহণের জন্য ১৭ ডিসেম্বর দিন ঠিক করা হলেও পরে তা ২০ জানুয়ারি করা হয়।
এর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ‘প্রভাবমুক্ত রাখতে’ গত ১২ জানুয়ারি ইসি এক আদেশে পেশাজীবীসহ সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন না করার নির্দেশ দেয়।
তবে ভোটের দাবিতে অনড় থাকেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। এর মধ্যে ১৫ জানুয়ারি আচরণবিধি মেনে চলার শর্তে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
এ সিদ্ধান্তসহ বেশ কিছু ঘটনায় ইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের সামনে রোববার থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রদল। সোমবার দুপুরে শাকসু নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন বিএনপিপন্থি আট শিক্ষক। এর পরপরই নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত এল উচ্চ আদালতের আদেশে।
এবারের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ২৩ পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯৭ জন। এছাড়া ছয়টি হল সংসদে লড়ছেন ৮৪ জন। প্রতিটি হল সংসদে নির্বাচনের জন্য ৯টি পদ রয়েছে। সবশেষ শাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯৭ সালের ২৫ অগাস্ট।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.