বই ছাড়াই ক্লাসে অর্ধকোটি শিক্ষার্থী

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৬-০১-০২ , ১১:১৩ এএম

বই ছাড়াই ক্লাসে অর্ধকোটি শিক্ষার্থী ছবি: নাগরিক পত্রিকা

ছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে ২০১০ সাল থেকে ১ জানুয়ারি চলে আসছে বই উৎসব করার রীতি। তবে দীর্ঘদিনের সেই রীতিতে ছন্দপতন ঘটেছে। এবার প্রাথমিক স্তরের সব বই স্কুলে স্কুলে পৌঁছানো গেলেও মাধ্যমিকের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি বই ছাড়াই শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষ।

ফলে নতুন বই ছাড়াই ক্লাসে যেতে হচ্ছে দেশের প্রায় অর্ধকোটি শিক্ষার্থীকে। মাধ্যমিক স্তরে গড়ে চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন এখনো কোনো পাঠ্যবই হাতে পায়নি।

বই বিতরণ নিয়ে খোদ সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যের অসংগতি ও শুভঙ্করের ফাঁকি ধরা পড়েছে। এনসিটিবির বিতরণ শাখার তথ্যমতে, মাধ্যমিকের চাহিদার ২১ কোটি ৪৩ লাখ বইয়ের বিপরীতে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ছাপা হয়েছে ১৬ কোটি ১০ লাখ কপি, যা মোট বইয়ের ৭৫.১৫ শতাংশ। অথচ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের দাবি, প্রথম দিনেই ৮৩ শতাংশ বই পৌঁছেছে। অন্যদিকে, এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) ড. রিয়াদ চৌধুরী জানান, প্রথম দিনে ৭১.৭৬ শতাংশ বই বিতরণ করা হয়েছে। আর মাঠপর্যায়ে কালবেলার অনুসন্ধান বলছে, অনেক স্কুলে ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণির ১২টি বইয়ের মধ্যে মাত্র ২ থেকে ৪টি বই দেওয়া হয়েছে। এই তিনটি শ্রেণিতে গড়ে ৫৫ শতাংশ বই ছাপা হয়েছে।

বই ছাপানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে খারাপ অবস্থা অষ্টম শ্রেণিতে। এই শ্রেণিতে ৪ কোটি ২ লাখ বইয়ের চাহিদার বিপরীতে ছাপা হয়েছে ৫১ শতাংশ (২ কোটি ৬৮ লাখ)। যদিও মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই শ্রেণিতে বই ছাপার সংখ্যা দেখানো হয়েছিল মাত্র ১৮ লাখ ৯ হাজার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২ কোটির বেশি বই ছাপার এই অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান নিয়ে খোদ এনসিটিবিতেই প্রশ্ন উঠেছে। সপ্তম শ্রেণিতে বই ছাপানো হয়েছে মাত্র ৬২ শতাংশ। এই শ্রেণিতে ৪ কোটি ১৫ লাখ বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ বই। মোট ৬২ শতাংশ। এই পর্যায়ে এক সপ্তাহ আগে বই ছাপার পরিমাণ দেখানো হয় ৭০ লাখ ৫৫ হাজার।

ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও তা সন্তোষজনক নয়। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪ কোটি ৪৩ লাখ বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৩ কোটি ৫৯ লাখ বই। যদিও এক সপ্তাহ আগে এই সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪৩ লাখ ৬৫ হাজার। নবম শ্রেণিতে ৫ কোটি ৭০ লাখ বইয়ের বিপরীতে ছাপা হয়েছে ৪ কোটি ৮৬ লাখ। এক সপ্তাহ আগে এ সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের দাবি, ১ জানুয়ারি মোট ৮৩ শতাংশ বই বিতরণ করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণ করা সম্ভব হবে। রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে চলতি বছর বই উৎসব হয়নি বলে জানান তিনি। যদিও গত বছরও বই উৎসব করেনি সরকার। তার দাবিএবার দরপত্র প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা দেরি হলেও চলতি মাসের মধ্যে সব বই পেয়ে যাবে।

এদিকে প্রেস সচিবের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে গরমিল রয়েছে এনসিটিবির দেওয়া তথ্য। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) ড. রিয়াদ চৌধুরী জানান, মাধ্যমিকে সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি, এই তিনটি স্তরে মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার ৯২৭টি বইয়ের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে ৩ কোটি ১৪ লাখ, যা মোট বইয়ের ৭১ দশমিক ৭৬। অন্যদিকে এনসিটিবির বিতরণ শাখার তথ্য বলছে, ৭৫ শতাংশের বেশি বই বিতরণ করা হয়েছে।