ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা-ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা ৭০০

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট: ২০২৫-১২-০২ , ০৬:৪৮ পিএম

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা-ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা ৭০০ ছবি: আন্তর্জাল

ন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৭১২ জনে পৌঁছেছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (BNPB) মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, তিনটি প্রদেশে বন্যায় ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে এবং প্রায় ১১ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাপানুলি এবং সিবোলগা এলাকায় পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সেখানে ত্রাণ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

সরকারি এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য আকাশপথ ও জলপথে পাঠানো হলেও অনেক প্রত্যন্ত গ্রামে ত্রাণ পৌঁছায়নি। এর ফলে খাদ্য ও পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, এবং ক্ষতিগ্রস্তরা অনেক জায়গায় দোকান ভাঙচুর ও খাদ্য লুটপাটের মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সহায়তা পৌঁছানোর আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, অনেকেই ঘরবাড়ি ছাড়তে চান না, কারণ বন্যার পরও ঘরবাড়ি, ফসল এবং যানবাহন কাদামাটিতে ঢেকে গেছে। পশ্চিম সুমাত্রার রাজধানী পদাং থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের সুংগাই নিয়ালো গ্রামে এখনও রাস্তা পরিষ্কার করা শুরু হয়নি এবং বাইরের কোনো সাহায্যও পৌঁছায়নি।

এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক স্টারলিংক সেবা বিনামূল্যে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত ভিডিও তৈরির জন্য ১ লাখ ২০ হাজারেও বেশি বাড়ির ক্যামেরা হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়।

এ হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে দক্ষিণ কোরিয়া পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাড়ি ও ব্যবসায়ের এক লাখ ২০ হাজারেও বেশি ক্যামেরার ভিডিও হ্যাকিং এবং সেই ভিডিওর ফুটেজ ব্যবহার করে বিদেশি এক ওয়েবসাইটের জন্য যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট তৈরি করেছে তারা।

রোববার গ্রেফতারের ঘোষণা দিয়ে দেশটির পুলিশ বলেছে, এই হ্যাকিং চালাতে সহজ পাসওয়ার্ডের মতো ইন্টারনেট প্রোটোকল বা আইপি ক্যামেরার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে অভিযুক্তরা।

সিসিটিভির তুলনায় সাশ্রয়ী বিকল্প হল আইপি ক্যামেরা, যাকে সাধারণত হোম ক্যামেরাও বলে। বাড়ির ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সঙ্গে এগুলোর সংযোগ থাকে এবং সাধারণত নিরাপত্তার জন্য বা শিশু ও পোষা প্রাণীর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য বসানো হয় এসব ক্যামেরা।

দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে যেসব ক্যামেরা হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে, তার মধ্যে ব্যক্তিগত বাড়ি, কারাওকে রুম, পিলাটিস স্টুডিও এবং এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের ক্লিনিক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।

এক বিবৃতিতে দেশটির ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি বলেছে, চারজন সন্দেহভাজন একে অপরের সঙ্গে মিলে এসব কাজ করেননি এবং এ কাজের জন্য একসঙ্গে কোনো ষড়যন্ত্রও করেনি তারা।

চারজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ৬৩ হাজার ক্যামেরার দখল নিয়ে পাঁচশ ৪৫টি যৌন নিপীড়নমূলক ভিডিও তৈরি করেছেন তিনি, যা পরে প্রায় ১২ হাজার ২৩৫ ডলার মূল্যের ভার্চুয়াল সম্পদে বিক্রি করেছেন।

অন্য এক সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ৭০ হাজার ক্যামেরার অ্যাক্সেস নিয়ে ছয়শ ৪৮টি ভিডিও ১৮ মিলিয়ন ওনের বিনিময়ে বিক্রি করেছেন তিনি।

গত এক বছরে ওই বিদেশি ওয়েবসাইটে হ্যাকিংয়ের শিকার ক্যামেরার যতগুলো ভিডিও পোস্ট হয়েছে তার প্রায় ৬২ শতাংশ ভিডিওই তৈরি বা সরবরাহ করেছেন ওই দুই সন্দেহভাজন। ওয়েবসাইটে পোস্ট হওয়া ভিডিওর বেশিরভাগ তাদের হাতেই তৈরি।

বর্তমানে সেই ওয়েবসাইট বন্ধ ও ব্লকের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি এর পরিচালনাকারীকে তদন্তের আওতায় আনতে বিদেশি সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে পুলিশ। এ ছাড়া, ওই সাইট থেকে কনটেন্ট কিনেছে ও দেখেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এমন তিনজনকে গ্রেফতার করেছে তারা।

দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশের সাইবার তদন্ত শাখার প্রধান পার্ক উ-হিউন বলেছেন, ‌‌আইপি ক্যামেরা হ্যাকিং ও অবৈধ চিত্রায়ন ভুক্তভোগীদের জন্য গভীর দুর্ভোগ তৈরি করে। যে কারণে এটি গুরুতর অপরাধ। আমরা কঠোর তদন্তের মাধ্যমে এটি নির্মূল করব।

অবৈধভাবে ধারণ করা ভিডিও দেখা ও নিজের কাছে রাখাউভয়ই গুরুতর অপরাধ। এ কারণেও আমরা সক্রিয়ভাবে তদন্ত কাজ পরিচালনা করবো।