বুকভরা হতাশা নিয়ে এনসিপি নেতার পদত্যাগ

 নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৫-১১-৩০ , ০২:২৫ পিএম

বুকভরা হতাশা নিয়ে এনসিপি নেতার পদত্যাগ ছবি: নাগরিক পত্রিকা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন আরিফুল ইসলাম তালুকদার। ২৮ নভেম্বর তিনি দলের আহ্বায়ক বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। চিঠিতে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলাকে পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থানের পর দল ঐক্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং নেতৃত্বের কিছু অংশ অস্বাভাবিকভাবে অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা শরিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও বৈষম্যের জন্ম দিয়েছে। এতে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে এবং বিপ্লবের লক্ষ্যও বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তার অভিযোগ।

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও লেখেন, জুলাইয়ের আহতদের তালিকা প্রণয়নে অবিচার করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট বলয় প্রভাব বিস্তার করেছে। তার দাবি, সচিবালয়সহ রাষ্ট্র পরিচালনায় এখনো ৯০ শতাংশের বেশি ফ্যাসিবাদী আমলা বিদ্যমান, অথচ এ বিষয়ে দল বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় নি।

আরিফুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, অতীতের তিনটি নির্বাচনে মাফিয়ার ভূমিকা পালনকারী আমলাদের মাধ্যমেই আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, অথচ দল ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এ বিষয়ে নীরব। তিনি অভিযোগ করেন, উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের দায়িত্ব দল সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি এবং গত দেড় বছরে তাদের ব্যর্থতা ও অনৈক্য দেশকে কোনো ইতিবাচক ফল দিতে পারেনি।

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই বিপ্লবে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রক্ষা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তার সরাসরি অবদান রয়েছে, যা নেতৃত্ব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি। তার ভাষায়, এনসিপি ক্ষমতার রাজনীতি করছে এবং দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির ব্যাপারে দল উদাসীন ও বিচ্ছিন্ন

সবশেষে তিনি লেখেন, এসব কারণে এনসিপির সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা আর সম্ভব নয়। তবে দেশের জন্য তারুণ্যের রাজনীতির সম্ভাবনা আবার জাগ্রত হলে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন।