ঢাকার অনুরোধ খতিয়ে দেখছে দিল্লি

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট: ২০২৫-১১-২৭ , ১১:২৪ এএম

ঢাকার অনুরোধ খতিয়ে দেখছে দিল্লি ছবি: নাগরিক পত্রিকা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে লেখা চিঠির জবাব এখনও আসেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। দিল্লি এত তাড়াতাড়ি উত্তর দেবে এটা তিনি আশা করেন না বলেও উল্লেখ করেছেন। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

এদিকে গতকাল দিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এটি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

কোন প্রক্রিয়ায় ভারতে চিঠি পাঠানো হয়েছে এ প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, নোট ভারবাল (কূটনৈতিক পত্র) আমাদের মিশনের মাধ্যমে ওদের (ভারতের) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কোনো উত্তর আসেনি। এত তাড়াতাড়ি উত্তর আশাও করি না আমরা। উত্তর তাড়াতাড়ি আশা করেন না কেন এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এত তাড়াতাড়ি উত্তর আমি তো আগের চিঠিরই উত্তর পাইনি এখনও। কাজেই এটা একেবারে কালকে বা এক সপ্তাহের মধ্যে উত্তর দিয়ে দেবে, আমি প্রত্যাশা করি না। তবে আমরা আশা করি, এটার উত্তর আমরা পাব। এক সপ্তাহের মধ্যে উত্তর এসে যাবে এটা আমি প্রত্যাশা করি না। চিঠিতে কী বলা হয়েছে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা বলেছি, যেহেতু তাঁকে বিচারে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, কাজেই তাঁকে যেন ফেরত দেওয়া হয়।

গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। দণ্ডিত হওয়ার পর দুজনকে হস্তান্তরের জন্য ভারতকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৪ সালের ২০ এবং ২৭ ডিসেম্বর চিঠি দিয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

নির্বাচনে ভারতীয় পর্যবেক্ষক ইসির বিষয় নির্বাচনে ভারতীয় পর্যবেক্ষক আসতে চাইলে অনুমতি দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এটা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের বিষয়। এটাতে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। এমনকি যারা আসবে, তাদের কোনো সহায়তা আমরা করব না, যদি না নির্বাচন কমিশন আমাদের বলে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের বিষয়ে পশ্চিমা চাপ নেই:

জাতীয় সংসদ নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক করার বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই বলে জানিয়েছেন তৌহিদ হোসেন। তিনি জানান, আগামী নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য পশ্চিমাদের কোনো চাপ অনুভব করছে না সরকার।

এয়ারবাস কেনার বিষয়ে কোনো চাপ নেই:

এয়ারবাসের উড়োজাহাজ না কেনায় ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আমি মনে করি না এই বাণিজ্যিক একটি সমঝোতার ওপরে আমাদের সার্বিক সম্পর্ক নির্ভরশীল হবে। অবশ্যই জার্মানির রাষ্ট্রদূত চেষ্টা করবেন, যেন তাঁর দেশের যে ব্র্যান্ড আছে, সেটা বিক্রি হয়। এটা স্বাভাবিক, এটা তাঁর দায়িত্ব। আমি মনে করি, তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু আমি একেবারে মনে করি না যে, একটা বাণিজ্যিক সমঝোতা, যেটা বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি, তাতে করে আমাদের জন্য কোনটা সুবিধা হবে সেটা আমাদের বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।

তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় না যে, বিশেষজ্ঞদের মতামতের বাইরে গিয়ে একজন রাষ্ট্রদূত বা অন্যরা কী বলবেন, সেটার ভিত্তিতে এটা কেনা হবে। এয়ারবাস কেনার ক্ষেত্রে সরকার কোনো চাপ অনুভব করছে কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমি অন্তত অনুভব করছি না। বাকিটুকু যিনি কিনবেন, তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন।

বাংলাদেশের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত:

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধটি (ঢাকার চিঠি) পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আমরা শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি, স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা অব্যাহতভাবে সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।