ঢাকাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা

 নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৫-১১-১৩ , ০৬:৫৯ এএম

ঢাকাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ছবি: নাগরিক পত্রিকা

রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আজকের ঢাকা লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে গত তিন দিনে অন্তত ১৪টি গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে; আগুন দেওয়া হয়েছে ট্রেনেও। এ ছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রোধে ঢাকার প্রবেশমুখ ও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে কড়া তল্লাশি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল বুধবার ঢাকার রাস্তায় ব্যক্তিগত যান চলাচল ছিল তুলনামূলকভাবে কম। সন্ধ্যার পর অতি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় নামেননি নগরবাসী।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং যে কোনো অনভিপ্রেত কাণ্ড এড়াতে রাজধানীকে ৮টি অঞ্চলে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকা ও আশপাশের জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এরই মধ্যে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, যারা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, আইন প্রয়োগ করে তাদের দমন করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা বিভিন্ন উসকানি ও নির্দেশনা দিচ্ছে, তাদের বিষয়ে ডিবি সতর্ক রয়েছে। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটার শঙ্কা নেই। 

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে ১২ প্লাটুন এবং ঢাকার বাইরে আরও দুই প্লাটুনসহ মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। 

ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ১ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ১৫টি স্থানে ২৭টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এগুলো খুবই নিম্নমানের, দেশীয়ভাবে তৈরি। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। 

গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল ও মেসে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানে ঢাকা মহানগর ডিবি আওয়ামী লীগের ৪৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এর বাইরেও ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগ পৃথক অভিযানে আরও বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ঢাকার আটটি ক্রাইম ডিভিশনকে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রমনা ডিভিশনকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠেলে সাজানো হয়েছে। 

পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা হোটেলে ও মেসে অভিযান চালাচ্ছি। মঙ্গলবার রাতে কলাবাগানের একটি মেস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১ জনকে। তারা নাশকতার জন্য ঢাকায় জড়ো হয়েছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহ হলে তার তথ্য পুলিশের যে সিডিএমএস (অপরাধীদের ডেটাবেজ) আছে, সেখানে যাচাই-বাছাই করা হয়। কলাবাগানে যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচজন গোপালগঞ্জ থেকে এসেছেন, যাদের বিরুদ্ধে আগের মামলা রয়েছে।