নাশকতার আশঙ্কা

দেশের সব বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৫-১১-১২ , ০৬:৪৯ এএম

দেশের সব বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি ছবি: নাগরিক পত্রিকা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আগামী বৃহস্পতিবারের ঢাকা লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশে চলমান সহিংসতা ও নাশকতার আশঙ্কায় দেশের সব বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

গতকাল মঙ্গলবার সংস্থার সদর দপ্তর থেকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে পাঠানো চিঠিতে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এত সতর্কতার পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতার ঘটনা ঘটছে।

যান ও জন চলাচলে আতঙ্ক বাড়ছেই। গতকাল বিকেল পর্যন্ত শুধু রাজধানীতেই চারটি বাস ও একটি প্রাইভেট কারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সূত্রাপুর, যাত্রাবাড়ী, ভাটারা ও উত্তরায় এসব ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভালুকজানে আলম এশিয়া বাসে আগুনে গাড়িচালকের প্রাণহানি ঘটেছে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রের তথ্য অনুসারে, গত রবিবার থেকে গতকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ১৪টি গাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। গতকাল সূত্রাপুরে মালঞ্চ পরিবহনের একটি বাসে, যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে পরিবহন কম্পানির বাসে এবং কাজলা টোল প্লাজায় রাইদা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভাটারায় একটি পরিত্যক্ত প্রাইভেট কারে ও উত্তরায় রাইদা পরিবহনের আরো একটি বাসে আগুন দেয় নাশকতাকারীরা।

গত ১১ দিনে রাজধানীতে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এসংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য দেন তিনি। ডিএমপি কমিশনার বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল ১ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এ ছাড়া গত দুই দিনে রাজধানীতে ৯টি গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। এসব ঘটনায় গত দুই দিনে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭টি মামলা করা হয়েছে।

জানা গেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সতর্ক আছে বলে দাবি করছে। এর মধ্যেই নাশকতার ঘটনা ঘটছে। তাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আতঙ্কে আছেন। এ অবস্থায় গতকাল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ১৩ নভেম্বর ঘিরে শক্ত অবস্থানের জন্য আমাদের প্যাট্রলিং বাড়ানো হয়েছে। কেপিআইগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যেহেতু ১৩ নভেম্বর ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী একটি শক্ত অবস্থান নিয়েছে, সেহেতু পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।

এদিকে ডিএমপি কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঢাকার বাইরে থেকে লোকজন ঢাকায় এসে টাকার বিনিময়ে মিছিল করে আবার ঢাকার বাইরে চলে যায়। এসব ঘটনায় অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখেছি, হেলমেট ও মাস্ক পরে ভোরবেলায় বা ব্যস্ত সময়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে; তাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

বেবিচকের নির্দেশনা : গতকাল বেবিচকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি টহল কার্যক্রম ও মনিটরিং বাড়াতে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হাউসে আগুন লাগার পর থেকেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা হয়। এখন সহিংসতার আশঙ্কায় যুক্ত হয়েছে বাড়তি সতর্কতা।

বেবিচকের চিঠিতে বলা হয়েছে, সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রাখতে হবে। ফায়ার সার্ভেইল্যান্স কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে, যাতে জরুরি অবস্থায় দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়। বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। জনস্বার্থে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি জানান, সদর দপ্তর থেকে এরই মধ্যে সব বিমানবন্দরে লিখিত নির্দেশ পাঠানো হয়েছে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারকিতে কেন্দ্রীয় মনিটরিং টিমও কাজ করছে। বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল, শাহ আমানত ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও দেশের আটটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে একই মাত্রায় নিরাপত্তা সতর্কতা বলবত্ থাকবে।