চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ শিবির সন্ত্রাসী সরোয়ার সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত

 নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৫-১১-০৫ , ০৬:৫৮ পিএম

চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ শিবির সন্ত্রাসী সরোয়ার সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত

ট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ শিবির সন্ত্রাসী সরোয়ার ওরফে বাবলা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন চালিতাতলি এলাকায় বুধবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী গণসংযোগের সময় সন্ত্রাসীরা সরোয়ারের পেছন থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়।

এসময় বিএনপির এরশাদ উল্লাহও গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে নগরীর এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে শিবির সন্ত্রাসী সরোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে গুলিবিদ্ধ এরশাদ উল্লাহর অবস্থা আশংকাজনক বলে জানায় হাসপাতালে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী।

ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সরোয়ারের পেছন থেকে কেউ একজন হাত উঁচিয়ে তার মাথার পেছনের দিক থেকে পর পর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এতে সরোয়ার ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বায়েজিদ বোস্তামি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নাগরিক পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন। তবে কোন স্থানে, কীভাবে হামলা হয়েছে এবং কতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে তা তাৎক্ষণিক তিনি জানাতে পারেননি। 

শিবির সন্ত্রাসী সরওয়ার হোসেন বাবলা চট্টগ্রাম নগরের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজিসহ প্রায় ১৯টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত ৩০ মার্চ রাতে বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তার সহযোগী বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লাহ নিহত হন। সেই ঘটনায় বাবলা গুলিবিদ্ধ হলেও কৌশলে প্রাণে বাঁচেন।

২০২৪ সালের ২৭ জুলাই নগরীর অনন্যা আবাসিক এলাকা থেকে বাবলাকে সহযোগী বাবুলসহ গ্রেফতার করে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। পরদিন আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে সেই জামিনে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসে।

এর আগে ২০১১ সালের জুলাইয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিঙ্গারবিল এলাকা থেকে গ্রেফতার হন নুরুন্নবী ম্যাক্সন। তার দেওয়া তথ্যে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকা থেকে সরোয়ারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তখন সরোয়ার-ম্যাক্সনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি পিস্তল, একটি এলজি, একে-৪৭ রাইফেলের দুটি ম্যাগাজিন ও গুলি। ২০১৭ সালে কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে কাতারে চলে গিয়েছিলেন সরোয়ার ও ম্যাক্সন। সেখানে বসেই তারা দেশে চাঁদাবাজি চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ছিল।প্রায় তিন বছর কাতারে ছিলেন সরোয়ার। সেখানে মারামারির এক ঘটনায় পুলিশ তাকে আটক করে এক মাসের সাজা দেয়। সাজা শেষে সরোয়ারকে তারা দেশে পাঠিয়ে দিলে ২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিমানবন্দরে পুলিশ তাকে আটক করে।