আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে শেষ হলো ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৫-০২-১২ , ০৯:৪১ পিএম

আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে শেষ হলো ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছবি: নাগরিক পত্রিকা

ড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৮তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) জাহানাবাদ সেনানিবাসে অবস্থিত ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ (বাংলা ও ইংলিশ ভার্সন) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনে গৌরবান্বিত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জাহানাবাদ সেনানিবাস, খুলনায় অবস্থিত।

স্বনামধন্য শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ লে.কর্ণেল মুস্তফা রাসেল আল রসিদের (পিবিজিএমএস, অর্ডন্যান্স) সার্বিক তত্বাবধানে বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও অনুবাদ করে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাহানাবাদ সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সাজ্জাদ হোসেন (এএফডব্লিউসি, পিএসসি)। তিনি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিনী মিসেস রুলিয়া ইয়াসমিন।

বেলা তিনটায় প্রধান অতিথির আগমন ও আসন গ্রহনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ তার স্বাগত বক্তব্যের পর শুরু হয় প্রতিযোগিদের শপথ গ্রহন ও কুচকাওয়াজ। পরে মশাল প্রজ্জ্বলন ও প্রদক্ষিণের পর পিটি প্রদর্শন শেষে বিকাল সোয়া চারটায় শুরু হয় ক্রীড়া অনুষ্ঠান।

ক্রীড়া অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল, একশ’ মিটার দৌড়, ৫০ মিটার ভারসাম্য দৌড়, ১১০ মিটার হার্ডেলস দৌড় শেষে শুরু হয় যেমন খুশি তেমন সাজো। অভিভাবকবৃন্দের মাঝে ‘কিক দ্যা বল’ (পুরুষ অতিথি) এবং ‘বাস্কেট বল নিক্ষেপ’ (মহিলা অতিথি) প্রতিযোগিতা শেষে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষর্থীদের মধ্যকার ‘দড়ি টানাটানি’ প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে শেষ হয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এসময় এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায়।

এরআগে, প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ সকল ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধার সাথে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদসহ সম্প্রতি ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে সকল শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে তার স্বাগত বক্তব্যে শুরু করেন।

তিনি তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘‘আমরা আজকের দিনে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, দীর্ঘদিন যাদের পদচারণায় আমাদের এই প্রাঙ্গণ মুখরিত ছিল, আজকে তারা আবারও আমাদের বিদ্যাপিঠে ফিরে এসে তাদের পদচারণায় করেছে মুখরিত একারণে আমাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জানাই বিশেষ অভিনন্দন এবং প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। আমরা আশা করি আবারও তাদের আমরা বিদ্যালয়ে উৎসবমূখর অনুষ্ঠানে সারথি হিসেবে পাশে পাবো, ইনশাআল্লাহ।’’

তিনি বলেন, ‘‘আজকের এই বিশেষক্ষণে বলতে চাই, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কেবলমাত্র পড়াশোনা ও ফলাফলে সর্বোৎকৃষ্ট ফলাফল অর্জনই একজন শিক্ষার্থীর জীবনে একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। বরং মানসিক ও শারীরিক উৎকর্ষতা অর্জন, ধর্মীয় ও নৈতিক অনুশাসনের মাধ্যমে অর্জিত বলিষ্ঠ নেতৃত্বই কেবল একজন ব্যক্তি, একটি সমাজ, রাষ্ট্র ও সর্বোপরি একটি নিরাপদ বিশ্ব গড়তে পারে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি নৈতিক সুকুমারবৃত্তির উৎকর্ষতা অর্জনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ, এরই উৎকৃষ্ট উদাহরণ আপনাদের হাতে আজকে আমাদের প্রতিষ্ঠানের যে ব্রুশিয়ার তুলে দিয়েছি তাতে আমাদের সাম্প্রতিক কিছু অর্জনের প্রতিচ্ছবি ২য়, ৩য় ও ৭ম পৃষ্টায় তুলে ধরেছি। একইসাথে নৈতিক শিক্ষার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে পবিত্র কুরআনের একটি তরজমা কপি তুলে দিয়েছি ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য নৈতিক শিক্ষার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সভাপতি, পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ, শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিবারবর্গ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ, সম্মানিত সুধীবৃন্দের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

এরপর বিকাল পৌনে ৫টায় পুরস্কার বিতরণী শেষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সাজ্জাদ হোসেন অনুষ্ঠানের ‘প্রধান অতিথির ভাষণ প্রদান করেন। সুন্দর একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করায় তিনি তার ভাষণের শুরুতে আয়োজক এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের রং-বেরঙের সাজে দেখে তিনি উচ্ছ্বসিত এবং আনন্দিত ছিলেন।

তিনি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘তোমরা পিতা-মাতার কথা শুনবে। পিতা-মাতাকে শ্রদ্ধা করবে। গুরুজন এবং শিক্ষকদের সম্মান-শ্রদ্ধা করে চলবে। একজন ভালো মানুষ হিসেবে বড় হতে হলে, সকলকে সম্মান-শ্রদ্ধা করতে হবে। বিনীত, সংযত ও শশাভন আচার-ব্যবহার ছাড়া ভালো মানুষ হওয়া সম্ভব না।’’

তিনি সকল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা সব সময় নতুন কিছু শিখতে চেষ্টা করবে। ব্যক্তিগতভাবে এবং পেশাগতভাবে বৃদ্ধি পেতে এর বিকল্প নেই। তোমাদের বৃদ্ধির এই মানসিকতা নিশ্চিত করে যে তোমরা সর্বদা এক ধাপ এগিয়ে আছো।

আড়ম্বরপূর্ণ এমন একটি আয়োজনে দীর্ঘ সময় ধরে চলা অনুশীলন ও সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন  অত্র প্রতিষ্ঠানের ইংলিশ ভার্সনের উপধ্যক্ষ মাহমুদা ইয়াসমিন। একইসাথে অক্লান্ত পরিশ্রম করে এ অনুষ্ঠানকে সফল করতে তার সাথে ছিলেন, সকল শিক্ষক ও শিক্ষিকামন্ডলি।

অনুষ্ঠানে আরেও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পদস্থ অফিসার এবং অভিভাবকগণ।

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের (বাংলা ও ইংলিশ ভার্সন) গৌরবময় এমন যাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ, লে. কর্ণেল মুস্তফা রাসেল আল রসিদ, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সাজ্জাদ হোসেন, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকামন্ডলি, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নিরলস পরিশ্রমে সকল শিক্ষার্থীরা মানবিক ও ভালো মানুষ হবে- এমনটাই প্রত্যাশা করেছে অভিভাকবৃন্দ এবং শোভাকাঙ্খিরা।