নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৫-০২-১২ , ০৮:৪৮ পিএম
ছবি: নাগরিক পত্রিকা
গত অর্থবছর তিতাস গ্যাসের সিস্টেম লস বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৭ ভাগের বেশি। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সিস্টেম লস কমাতে জোর তৎপরতা চলছে। এদিকে, গ্যাস চুরির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির তাগিদ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের।
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে ১৩ হাজার কিলোমিটার পাইপলাইনে গ্যাস বিতরণ করে তিতাস। গ্রাহকের সাড়ে ২৮ লাখই আবাসিক। এছাড়া তারা গ্যাস সরবরাহ করে শিল্প, বাণিজ্য, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা ও সিএনজি স্টেশনে।
গত অর্থবছর পেট্রোবাংলা থেকে তিতাস গ্যাস বরাদ্দ পায় ১ হাজার ৫৭০ কোটি ঘনমিটার। এর মধ্যে বিক্রি করে ১ হাজার ৪৫০ কোটি ঘনমিটার। বাকি ১২০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস বা ৭ দশমিক ৬৭ ভাগ যায় সিস্টেম লসে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসির অনুমোদিত সিস্টেম লসের সীমা ২ শতাংশ।
তিতাস বলছে, তারা এখন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারছেন। তাদের দাবি, পুরান পাইপলাইনও সিস্টেম লসের বড় কারণ।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হয়েছে আমাদেরকে। তাকে নিয়েই আমরা সাম্প্রতিক অভিযানগুলো পরিচালনা করছি। এটার রেজাল্টও পাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করব, সিস্টেম লসটা দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে, আমাদের চেষ্টা থাকবে যাতে সিস্টেম লস যদি ১০ থাকে আমি এটাকে ৮ এ নিয়ে আসব। রাতারাতি তো এটা করতে পারব না। দেখা যাচ্ছে যে অবৈধ সংযোগগুলো লাগছে, কেটে ফেলছি আবার লেগে যাচ্ছে। এগুলোকে নিয়মিত মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখতে হয়।’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র। এতে শিল্প ও আবাসিক সংযোগের গ্যাস সংকটও বাড়ছে। তারা বলছেন, গ্যাস চুরি ঠেকাতে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে সরকারকে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, ‘আমরা তো দেখতে পাচ্ছি সিস্টেম লস কমাবার ব্যাপারে তিতাস যথেষ্ট সফলতা দেখাতে পারছে না। তার মানে এখানে যে জিনিসপত্রগুলো করতে হবে সেটা হচ্ছে, এক্সট্রিম এনফোর্সমেন্টে যেতে হবে। কিছু কিছু মানুষকে হয়ত জেলেও নিতে হবে, তারা যদি অবৈধ সংযোগ সৃষ্টি করে। এলাকাভিত্তিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে যে, আপনারা যদি আমাদের হেল্প না করেন এটা বন্ধে, তাহলে আপনারাও গ্যাস পাবেন না।’
সিস্টেম লস বেড়ে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিতাস গ্যাসের মুনাফায়। গত অর্থবছর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছাড়িয়েছে সাড়ে ৭ টাকা।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.