ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব খাবার

 স্বাস্থ্য-সেবা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৪-১২-১৩ , ০৭:৩১ এএম

ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব খাবার ছবি: ইন্টারনেট

খাদ্য আমাদের শরীরের প্রধান শক্তির উৎস হলেও, কিছু খাবার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব খাবারে থাকা উপাদান দীর্ঘ মেয়াদে শরীরের কোষে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং ক্যান্সার সৃষ্টি করতে সহায়ক হয়। সহজ ভাষায় এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

প্রক্রিয়াজাত মাংস
সসেজ, সালামি, হটডগ বা বেকনের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকে নাইট্রেট এবং নাইট্রাইট।

এগুলো শরীরে গিয়ে কার্সিনোজেন নামের ক্ষতিকর পদার্থে রূপান্তরিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়।

লাল মাংস
গরু, খাসি বা ভেড়ার মাংস নিয়মিত ও অতিরিক্ত খেলে কোলন, প্যানক্রিয়াস এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা রেড মিট থেকে হেটেরোসাইক্লিক অ্যামিন এবং পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন নামে রাসায়নিক তৈরি হয়, এগুলো ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

‘দ্য চায়না স্টাডি’ সহ-লেখক ও পুষ্টি বিজ্ঞানী ড. কোলিন ক্যাম্পবেলের মতে, ‘উচ্চমাত্রায় প্রাণীজ প্রোটিন গ্রহণ, বিশেষ করে লাল মাংস, লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। উদ্ভিজ্জ খাদ্যভিত্তিক ডায়েট গ্রহণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।’

চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার
চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন : কেক, পেস্ট্রি, সফট ড্রিংক ইত্যাদি অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। এটি ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে, যা দীর্ঘ মেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কড়া ভাজা বা গ্রিল করা খাবার
কড়া ভাজা বা গ্রিল করা খাবারে তৈরি হয় অ্যাক্রিলামাইড, এটা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে আলুর চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা বারবিকিউ, আমাদের দেশীয় চপ, পিঁয়াজু, বেগুনির মতো অতিরিক্ত ভাজা করা খাবারও এই তালিকায় পড়ে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার
বিস্কুট, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস ইত্যাদিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স ফ্যাট, রাসায়নিক প্রিজারবেটিভ এবং কৃত্রিম রং থাকে, এগুলো ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের পুষ্টি ও মহামারি বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ওয়াল্টার উইলেট বলেন, ‘প্রক্রিয়াজাত মাংস, যেমন বেকন, সসেজ এবং হটডগ, নিয়মিত গ্রহণ করলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। এই ধরনের খাবারে থাকা রাসায়নিক পদার্থ ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার
লবণযুক্ত মাছ, আচার বা অন্যান্য সংরক্ষিত খাবারে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম পাকস্থলীতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ধূমপান ও অ্যালকোহল
অ্যালকোহল লিভার, মস্তিষ্ক এবং গলবিলের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে ধূমপান ফুসফুস ও ব্ল্যাড ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে মতে, নিয়মিত ধূমপায়ী ও অ্যালকোহল সেবনকারীদের মধ্যে এই ঝুঁকি অনেক বেশি।

সফট ড্রিংকস ও এনার্জি ড্রিংকস
কৃত্রিম মিষ্টি, রাসায়নিক এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত সফট ড্রিংকস ও এনার্জি ড্রিংকস শরীরের কোষে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এগুলে ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

প্লাস্টিক পাত্রে রাখা খাবার
গরম খাবার প্লাস্টিকের পাত্রে রাখলে BPA (Bisphenol-A) নামে একধরনের রাসায়নিক নির্গত হয়, এটা শরীরের হরমোনে পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

পুরনো বা বাসি খাবার
বাসি খাবারে ছত্রাক জন্মায়, যা আফলাটক্সিন নামে ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি করে। এগুলো লিভার ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

যেভাবে ঝুঁকি কমাবেন:

  • টাটকা এবং প্রাকৃতিক খাবার খান।
  • প্রক্রিয়াজাত এবং প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • প্রতিদিন প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খান।
  • পানি বেশি পান করুন এবং শরীরকে হাইড্রেট রাখুন।
  • গভীর ভাজা এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার কম খান।

খাবার জীবনের অপরিহার্য অংশ।  কিন্তু সঠিক খাবার নির্বাচন সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারে। প্রক্রিয়াজাত এবং ক্ষতিকর খাবার থেকে দূরে থেকে টাটকা এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।  সচেতন থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।

সূত্র : ল্যানসেট