৩০ হাজার কপি পাঠ্যবই বাতিল

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৪-১২-১১ , ০১:০০ পিএম

৩০ হাজার কপি পাঠ্যবই বাতিল ছবি: নাগরিক পত্রিকা

নিম্নমানের কাগজে ছাপা হওয়া প্রায় ৩০ হাজার কপি প্রাথমিকের পাঠ্যবই বাতিল করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের মনিটরিং টিম। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ফরাজী প্রেস  এন্ড পাবলিকসন্সে গিয়ে হাতে নাতে ধরে ফেলে নিম্নমানের কাগজ ও বাঁধাই করা পাঠ্যবই।  গতকাল এনসিটিবির একাধিক সূত্র নাগরিক পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

মনিটরিং টিমের একজন সদস্য বলেন,  টেন্ডারেরর শর্ত অনুযায়ী ফরাজী প্রেস কাগজের বার্স্টিং ফ্যাক্টর মানেনি।  এছাড়া কাগজের  উজ্জ্বলতাও কম। তাদেরকে শোকজ করা হবে। 

এর আগে গত সপ্তাহে নিম্নমানের কাগজে পাঠ্যবই ছেপে হাতেনাতে ধরা পড়ে অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস ও কর্ণফুলী আর্ট প্রেস। নোয়াখালীর চৌমুহনীতে গিয়ে এই দুটি প্রেসে প্রাথমিকের পাঠ্যবই নিম্নমানের কাগজে ছাপার ঘটনা হাতেনাতে ধরেছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা।  দুটি প্রেসের প্রায় ৫০ হাজার পাঠ্যবই বাতিল করা হয় গত বুধবার। 

এই দুটি প্রিন্টার্সের মালিক একই ব্যক্তি।  গত কয়েকবছর তিনি এভাবেই নিম্নমানের কাগজে বই ছেপেছেন।  কিন্তু সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ও এনসিটিবির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম ও সাবেক সচিব মোসা. নাজমা বেগম, ৪০০ কোটি টাকার মালিক পিয়ন পানি জাহাঙ্গীর, চাঁদপুর পুরান বাজার কলেজের রতন মজুমদারের সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করে পার পেয়ে গেছেন বলে জোর অভিযোগ রয়েছে।

এনসিটিবির ৪ সদস্য্যের পরিদর্শন টিম অগ্রণী ও কর্ণফুলী প্রেসে গিয়ে প্রায় ৫০ হাজার পাঠ্যবইয়ে নানা অনিয়ম ও ত্রুটি পান।  সব বইয়েরই কাগজ নিম্নমানের। আবার বইয়ের বাইন্ডিং ঠিক নেই। কাগজের বাস্টিং ফ্যাক্টর কম, বইয়ের সামনের ও পেছনের মলাট খুলে যাচ্ছে।  তাছাড়া বই ছাপার ক্ষেত্রেও নানা অনিয়ম দেখেছেন তারা।  ৫০ হাজার কপি ত্রুটিপূর্ণ বই সঙ্গে সঙ্গে কেটে ফেলা হয়েছে। 

​এর আগে গত দুই সপ্তাহে রাজধানীর মাতুয়াইলের আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বই বাতিল করা হয়েছে।  আনন্দ প্রিন্টার্সকে সতর্ক করা হয়েছে।

১ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বিতরণের জন্য এই পাঠ্যবই ঠিকাদারদের দিয়ে ছাপানো হচ্ছে। সার্বিক মনিটরিং ও তত্ত্বাবধানে রয়েছে এনসিটিবি। এবার ৪০ কোটিরও বেশি বই ছাপা হবে।