৫০০ জায়গায় বোমা হামলা চালিয়েছে এই বিএনপি: শেখ হাসিনা

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২২-১২-০৪ , ০৫:২৬ পিএম

৫০০ জায়গায় বোমা হামলা চালিয়েছে এই বিএনপি: শেখ হাসিনা ছবি: নাগরিক পত্রিকা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি চট্টগ্রামে তারা সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করেছে। দেশের ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা চালিয়েছে এই বিএনপি। তারা বাংলাদেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেয়নি। তারা মানুষের শান্তি চায় না। তারা জনগণের অর্থ পাচার করেছে নিজেরা অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছে।

আজ রবিবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ৮০ সালে যখন মারা যায়, আমরা টিভিতে তখন শুনেছিলাম, একটা ভাঙ্গা সুটকেস আর ছেড়া গেঞ্জি ছাড়া তার কিছুই ছিল না। খালেদা জিয়ার ক্ষমতায় আসতে না আসতেই হাওয়া ভবন খুলে তার ছেলে চাঁদাবাজি আর অর্থ সংগ্রহ করে অর্থ পাচার করেছে। রাতারাতি তারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে। আমার প্রশ্ন, এগুলো কোথা থেকে আসলো? ভাঙ্গা সুটকেস তো আর জাদুর বাক্স হয়ে যায়নি।

চট্রগ্রামে নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের পক্ষে কাজ করে, এদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে। এই চট্টগ্রামে প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আওয়ামী লীগ সরকার করেছে। ঢাকা চট্টগ্রাম সড়ক চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নত করবো আমরা।  

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আজ খালেদা জিয়া কারাগারে কেন? বিদেশ থেকে টাকা এসেছিলো এতিমের জন্য। কিন্তু সেই টাকা এতিমরা পায়নি। জিয়া অরফানেজের টাকা চুরি করেছে বলেই তার সাজা হয়েছে। আর তার ছেলে একটা তো মারা গেছে। আরেকজন কুলাঙ্গার বানিয়ে রেখে গেছেন জিয়াউর রহমান। সে এখন লন্ডনে বসে আছে। আর কোনদিন রাজনীতি করবে না বলে ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। এখন সে সেখানে বসে রাজার হালে থাকে আর দেশের ভেতর যত বোমাবাজি, যত রকমের খুন-খারাবি, নাশকতার কাজ সেগুলো চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে স্যাটেলাইটের জগতে নিয়ে গেছি। সারাদেশে আমরা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ চালু করেছি। আপনাদের হাতে যে মোবাইল ফোন আছে এটা কে দিয়েছে? আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে, আমরা দিয়েছি? আপনাদের চট্টগ্রামের লোক বিএনপি আমলে মন্ত্রী ছিল। তখন একটা মোবাইল ফোন কিনতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লাগতো। ফোন করলেও ১০ টাকা, ফোন ধরলেও ১০ টাকা লাগতো তখন। আজ আপনাদের সকলের হাতে মোবাইল ফোন যা আওয়ামী লীগ সরকার এসে উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, রিজার্ভ নিয়ে তারা গুজব রটিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আমরা রিজার্ভকে কাজে লাগিয়েছি। এখনো ৩৪ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ আছে। বাংলাদেশে খাদ্যের কোন অভাব নাই, কোনদিন অভাব হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণের কাছে আত্মসমর্থন করতে হবে জেনে পাক বাহিনী পরিকল্পিতভাবেই এই দেশের সুর্য সন্তানদের হত্যা শুরু করে। যাতে করে এই দেশে বুদ্বিজীবী শুণ্য হয়ে যায়। এই দেশে যাতে ভবিষ্যতে এগোতে না পারে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে সেই ১০ ডিসেম্বরই বিএনপির খুব প্রিয় একটি তারিখ। ১৯৭১ সালের পাক বাহিনীর দোসর বিএনপি নাকি ১০ ডিসেম্বর ঢাকা দখল করবে এবং আওয়ামী লীগ সরকারেকে উৎখাত করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছিলো। কিন্তু সেই চুরির ভোট এই দেশের জনগণ মেনে নেয় নাই। এর প্রতিবাদে সারা দেশের মানুষ ফুসে উঠে। আমরা জনগণের ভোট আদায়ে জনতার মঞ্চ করেছিলাম।  ভোট চুরি করে ক্ষমতায় যাওয়া খালেদা জিয়াকে শেষ পর্যন্ত দেড় মাসের মাথায় বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করতে হয়েছিলো।  সেই ভোট চুরির কথা বিএনপির মনে রাখা উচিত। ভোট চুরি করে ক্ষমতায় যাওয়া এই দেশের মানুষ মেনে নেয় না। তাই ওরা হুংকার দিচ্ছে আবারও অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় যাওয়ার। তাই তো বিএনপি ভোট চায় না।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের কথা সবসময় আমার মনে পড়ে। বাবা জেল থেকে বের হলেই চট্টগ্রামে নিয়ে আসতেন। করোনার কারণে দীর্ঘ সময় আসতে পারেনি তাই আজ হাজির হয়েছি। এই লালদিঘীর সামনে ১৯৮৮ সালে ২৪ জানুয়ারি আমাকে হত্যা করতে গুলি করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে খালেদা জিয়াও জড়িত ছিলেন। সেই হত্যাকারী পুলিশ অফিসারকে প্রমোশন দেওয়া হয়। বেশি দিন আগের কথা নয়, ২০০১ নির্বাচনে পর এই চট্টগ্রামে হিন্দু, বৌদ্ধরা কেউ রেহাই পায়নি, তাদের (বিএনপি) অত্যাচার থেকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে আমরা ধারণ করি। কিন্তু ১৯৭৫ এর আগষ্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তার সেই আদর্শকে বিসর্জন দেয়া হয়। এমনকি বঙ্গন্ধুর নাম পর্যন্ত মুছে ফেলা হয়েছিলো। সে সময়ে এমনকি জয় বাংলা স্লোগান পর্যন্ত  নিষিদ্ধ করেছিলো ওই খালেদা জিয়া গংরা। আমরা ক্ষমতায় ফিরে আসার পরে আল্লাহর রহমতে আজ জয় বাংলা স্লোগান ফিরে এসেছে। বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস এখন তরুণ প্রজন্ম জানতে পারছে।