খেলাধুলা ডেস্ক
আপডেট: ২০২১-১১-২২ , ০৭:১০ পিএম
ছবি: সিটিজেন নিউজ
১২৪ রানের পুঁজিকেও প্রায় যথেষ্ট প্রমাণ করেন বোলাররা। তাদের দৃঢ়তাতেই স্বল্প রানের এই ম্যাচটাও গড়ায় শেষ ওভারে। রুদ্ধশ্বাস ওই ওভারে তিন তিনটি উইকেট হারিয়েও শেষ বলে গিয়ে তবেই কাঙ্ক্ষিত জয় পায় পাকিস্তান। ফলে ৩-০ ব্যবধানে হেরে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ।
শ্বাসরুদ্ধকর ওই শেষ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ছিল মাত্র ৮টি রান। যা আটকানোর দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ম্যাজিক্যাল ওই ওভারের প্রথম বলটি ডট আদায় করে দ্বিতীয় বলেই সরফরাজ আহমেদকে তিনি শিকার করেন রিয়াদ। আর পরের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে সীমানায় শান্তর অসাধারণ ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন হায়দার আলীও।
যাতে রুদ্ধশ্বাস শেষ তিন বলে পাকিস্তানের দরকার সেই ৮ রানই। অন্যদিকে টানা দুই বলে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের আশায় টাইগার কাণ্ডারী। কিন্তু ইফতিখার আহমেদ নেমেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ নিয়ে যান পাকিস্তানের পক্ষে। ২ বলে তখন ২ রান প্রয়োজন সফরকারীদের। এমনই টানটান উত্তেজনাময় অবস্থায় গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইফতিখার।
ফলে শেষ বলে জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ছিল ওই ২ রানই। এসময় রিয়াদ শেষ বলটি ডেলিভারি দেয়ার পরই ব্যাট ও হাত তুলে দাঁড়ান ক্রিজে আসা ব্যাটার মোহাম্মদ নওয়াজ। বলটি সরাসরি স্ট্যাম্পে আঘাত হানলেও ডেড ঘোষণা করেন আম্পায়ার। পরে রিয়াদ সময় নিয়ে শেষ বলটি ছুড়লে চার হাঁকিয়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন বাঁহাতি ওই ব্যাটার।
আর এতেই তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটের হারে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হলো বাংলাদেশ।
এর আগে ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় আজ তৃতীয় ম্যাচেও নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। এদিন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখের ব্যাট থেকে। ফিফটি করার সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ৫০টি বল খেলা নাঈম। দুটি করে চার-ছক্কার মার ছিল তাঁর এই অ্যাঙ্করিং ইনিংসে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে ওয়ান ডাউনে নামা শামীম হোসাইনের ব্যাট থেকে। ২৩ বলে ২২ রান করে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চারের মার। আরেক বাঁহাতি আফিফ হোসাইনের ব্যাট থেকে আসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০ রান। তাঁর ২১ বলের ইনিংসে ছিল ২টি ছক্কার মার। আর অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আউট হন ১৪ বলে ১৩ রান করে।
অর্থাৎ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হলেও প্রত্যেকেই রানের থেকে বেশি বল খেলেছেন। যাতে দলীয় স্কোরে জমা হয়নি প্রয়োজনীয় রানও।
এদিন দলের মূল বোলারদের বসিয়ে রেখে সাইড বেঞ্চকে বাজিয়ে দেখা পাকিস্তান তবুও সফল। কেননা, নিয়মিত সুযোগ না পেলেও উসমান কাদির, মোহাম্মদ ওয়াসিম, হারিস রউফরা দেখিয়েছেন তাদের কারিশমা। একটি রান আউট হলেও বাকি ছয়টি উইকেটের মধ্যে দুটি করে উইকেট নেন উসমান কাদির ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। বাকি দুটি ভাগ করে নেন হারিস রউফ ও শাহনেওয়াজ দাহানি।
যাইহোক, ১২৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানও শুরু করে ধীরগতিতে। সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। পাকিস্তানি অধিনায়ক বাবর আজমকে শিকার করেন এই লেগ স্পিনার। ফলে ৩২ রানে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। বাবর ফেরেন ২৫ বলে ১৯ রানের ইনিংস খেলে।
টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তান সংগ্রহ করে ১ উইকেটে ৪৬ রান। তবে এরপরেই রান তোলার গতি বৃদ্ধি করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও হায়দার আলী। ৪৮ বলে ৫০ রানের জুটি পূর্ণ করেন এই দুজন। ৫১ রানের জুটি ভাঙেন শহিদুল ইসলাম। রিজওয়ানকে বোল্ড করে প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট শিকার করেন শহিদুল। রিজওয়ান করেন ৪৩ বলে ৪০ রান।
আর শেষ ওভারে গিয়ে আউট হওয়া হায়দার আলী করেন ৩৮ বলে ৪৫ রান। তাঁর এই ম্যাচ সেরা ইনিংসে ছিল দুটি ছক্কা ও তিনটি চারের মার। বাংলাদেশ দলের পক্ষে ওই একটি ওভার বল করেই ১০ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
অন্যদিকে, তিন ম্যাচে মোট ৯০ রান করে সিরিজ সেরা হন মোহাম্মদ রিজওয়ানই। যদিও দুই ইনিংসে সিরিজে সর্বোচ্চ ৯১ রান করেন ফখর জামান। আর বল হাতে সর্বাধিক পাঁচটি উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ ওয়াসিম।
আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে চট্টগ্রামে শুরু হবে দুই দলের মধ্যকার দুই টেস্টের প্রথম ম্যাচটি। আর ৪ ডিসেম্বর থেকে ঢাকার মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.