দাখিল পাস রাজের বিরুদ্ধে পর্ণগ্রাফী আইনে মামলা

 সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০২১-০৮-০৫ , ০৮:৫৪ পিএম

দাখিল পাস রাজের বিরুদ্ধে পর্ণগ্রাফী আইনে মামলা ছবি: সিটিজেন নিউজ

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গতকাল বুধবার বিকেলে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে প্রযোজক ও অভিনেতা নজরুল ইসলাম রাজের বাসা থেকেও বিপুল পরিমাণ মাদক ও সিসার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

পরী মণির সহযোগী ও রাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার নজরুল ইসলাম রাজের বিষয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজের কাছ থেকে আমরা মাদক ও বেশ কিছু ডিজিটাল কনটেন্ট উদ্ধার করেছি। সেগুলো দিয়ে তিনি বিভিন্ন লোককে ব্ল্যাকমেইল করতেন। এজন্য রাজের বিরুদ্ধে মাদক ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হবে।

র‌্যাব জানায়, ইতিমধ্যে, নজরুল রাজ ও তার ব্যবস্থাপক মো. সবুজ আলীকে আসামি করে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ (১) এর সারণি ২৪(খ)/ ৩৬ (১) এর সারণি ১০ (ক)/৪১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলা নম্বর ছয়।

র‍্যাব আরও জানায়, নজরুল রাজকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি ১৯৮৯ সালে খুলনার একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। পরে ঢাকায় গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন বলে দাবি করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য ও ঠিকাদারী কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি শোবিজ জগতেও তার অনুপ্রবেশ ঘটে। বিভিন্ন সিনেমা/নাটকে তিনি নানান চরিত্রে অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে নামে বেনামে প্রযোজনায় যুক্ত হন। রাজ মাল্টিমিডিয়া নামেও তার একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসায়িক জগত ও চিত্র জগতের দুই ক্ষেত্রে তার সংযোগ থাকায় তিনি অতিরিক্ত অর্থ লাভের আশায় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নিজ অবস্থানের অপব্যবহার করেন।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, নজরুল রাজ ইতোপূর্বে গ্রেফতারকৃত শরিফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানের সহযোগিতায় ১০ থেকে ১২ জনের একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেন। উক্ত সিন্ডিকেটটি রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করে থাকে।

উক্ত পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে সিন্ডিকেট সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন। অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত উচ্চবিত্ত অভিজাত পরিবারের সদস্য। প্রতিটি পার্টিতে ১৫ থেকে ২০ জন অংশগ্রহণ করত। এ ছাড়া সিন্ডিকেটটি বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করত।

একইভাবে উচ্চবিত্ত প্রবাসীদের জন্যেও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টির আয়োজন করা হতো। পার্টি আয়োজনের ক্ষেত্রে আগত ব্যক্তিদের চাহিদা/পছন্দের গুরুত্ব দিয়ে পার্টিগুলো আয়োজন করত। গ্রেফতারকৃত নজরুল রাজের সিন্ডিকেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করতেন। সুদূর প্রসারী পরিকল্পনায় তারা অগ্রসর হতেন ও স্বার্থ চরিতার্থ করতেন। রাজের ‘রাজ মাল্টিমিডিয়া’র কার্যালয়টি অনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হতো।

নজরুল রাজ র‍্যাবকে জানিয়েছেন, এ জাতীয় অবৈধ আয় থেকে অর্থ নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসায় আমদানি, ড্রেজার বালু ভরাট ও ঠিকাদারী এবং শোবিজ জগতে বিনিয়োগ করতেন। বর্ণিত ব্যবসায় বেশ কয়েকজন অবৈধ অর্থের যোগানদাতাদের সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের ব্যবসায়িক কাঠামোতে অস্বচ্ছতা রয়েছে।