পরী মণি ও রাজের বিরুদ্ধে মামলা

 সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০২১-০৮-০৫ , ০৮:১১ পিএম

পরী মণি ও রাজের বিরুদ্ধে মামলা ছবি: সিটিজেন নিউজ

চিত্রনায়িকা পরী মণি ও প্রযোজক মো. নজরুল ইসলাম রাজসহ চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বনানী থানায় এসব মামলা করা হয়। 

এর আগে পরী মণি, প্রযোজক নজরুল রাজসহ চারজনকে বনানী থানায় সোপর্দ করে র‍্যাব। এরপর তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। কিছুক্ষণ পরে তাদের ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে।

এর মধ্যে একটি মামলায় শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে স্মৃতি মণি ওরফে পরী মণি এবং তার ব্যবস্থাপক ও কথিত মামা আশরাফুল ইসলাম ওরফে দীপুকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ  আইন, ২০১৮ এর  ৩৬(১) এর সারণি ২৪(খ)/ ৩৬ (১) এর সারণি ১০ (ক)/৪২(১)/৪১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা নম্বর পাঁচ। 

আরেকটি মামলায় নজরুল রাজ ও তার ব্যবস্থাপক মো. সবুজ আলীকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ (১) এর সারণি ২৪(খ)/ ৩৬ (১) এর সারণি ১০ (ক)/৪১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলা নম্বর ছয়।

এ বিষয়ে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আজ দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গতকাল বুধবার বিকেলে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে পরী মণির বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রযোজক ও অভিনেতা নজরুল ইসলাম রাজের বাসা থেকেও বিপুল পরিমাণ মাদক ও সিসার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।’

র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পরী মণির বাসায় অভিযান পরিচালনা করি। তার বাসায় একটি মিনিবার পাওয়া যায়। আমরা তার বাসা থেকে ১৯টি বিদেশি মদের বোতল, এলএসডিসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছি। এ জন্য শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে স্মৃতি মণি ওরফে পরী মণির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে।

পরী মণির সহযোগী ও রাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার নজরুল ইসলাম রাজের বিষয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজের কাছ থেকে আমরা মাদক ও বেশ কিছু ডিজিটাল কনটেন্ট উদ্ধার করেছি। সেগুলো দিয়ে তিনি বিভিন্ন লোককে ব্ল্যাকমেইল করতেন। এজন্য রাজের বিরুদ্ধে মাদক ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, নজরুল রাজের সিন্ডিকেট রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজে পার্টির আয়োজন করত। এসব পার্টিতে অনেক অবৈধ কর্মকাণ্ড তৈরি হতো। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করত। নজরুল রাজের ‘রাজ মাল্টিমিডিয়া’র কার্যালয়ে বিভিন্ন অপকর্ম হতো। তিনি কয়েকজন অবৈধ অর্থের যোগানদাতার নাম জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন নাম উঠে এসেছে। সেগুলো আমরা যাচাই করছি। তদন্তের স্বার্থে এসব এখনই বলছি না। কারা আসতো-যেতো সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না যাচাই-বাছাই করছি। তদন্তের স্বার্থে এখন বলছি না। ১৯টি বিদেশি মদের বোতল পাওয়া গেছে পরী মণির বাসা থেকে। সামগ্রিকভাবে আমরা তদন্ত করছি। পরী মণির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং রাজের বিরুদ্ধে মাদক ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, পরী মণির মদ খাওয়ার লাইসেন্স থাকলেও তা ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ। 

এর আগে র‍্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শরিফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং তার সহযোগী মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকার গুলশান, বারিধারা ও বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টি আয়োজনের বেশ কয়েকটি স্থানের তথ্য প্রদান করে। ফলশ্রুতিতে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১-এ অভিযান গতকাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর বনানী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শামসুর নাহার স্মৃতি ওরফে স্মৃতিমণি ওরফে পরী মণি (২৬) ও মো. নজরুল ইসলাম ওরফে রাজসহ (৩৯) চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অপর সদস্যরা হলেন পরী মণির ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দীপু (২৯) ও রাজের ম্যানেজার মো. সবুজ আলী (৩৫)। উদ্ধার করা হয় একটি মিনি বার পরিচালনার বিভিন্ন সরঞ্জামাদিসহ ১৯ বোতল বিভিন্ন প্রকার বিদেশি মদসহ দেড় শতাধিক ব্যবহৃত বিদেশি মদের বোতল, ইয়াবা ও সিসা সামগ্রী, এলএসডি; আইস ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।