উগ্রবাদী বক্তাদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে

  সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০২১-০৫-১৭ , ০১:২৫ পিএম

উগ্রবাদী বক্তাদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে ছবি । সিটিজেন নিউজ

সাম্প্রদায়িক উসকানি ও জঙ্গিবাদে উৎসাহ প্রদানকারী উগ্রবাদী বক্তাদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। এরইমধ্যে নয়-দশজনকে শনাক্ত করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এরমধ্যে হেফাজতে ইসলামের নেতারাও রয়েছেন। কর্মকর্তারা জানান, জঙ্গিদের কাছে জনপ্রিয় উগ্রবাদী বক্তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে উসকানিদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হবে।

ওয়াজ মাহফিলের পাশাপাশি সাইবার দুনিয়াতেও সক্রিয় অনেক  বক্তা।  ধর্মীয় বিদ্বেষ, নারী বিদ্বেষ, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ান তারা।  ভিন্নমতাবলম্বীদের নাস্তিক আখ্যায়িত করে হরহামেশা দেখে নেয়ার হুমকিও দিচ্ছে উগ্রবাদীরা।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট জানিয়েছে, উগ্রবাদী বক্তাদের দলে টানছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো। ২০১৩তে জসিম উদ্দীন রাহমানী গ্রেফতার হওয়ার পর অনুসারীদের উদ্বুদ্ধ করার মত বই-পুস্তক ও বক্তব্যের সংকটে পড়ে আনসার আল ইসলাম। এই সংকট কাটাতে দু'বছর পর আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে আলী হাসান ওসামাকে নিয়োগ দেয় জঙ্গি সংগঠনটি। তার বক্তব্য ও বই-পুস্তক জঙ্গিবাদ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্মতত্ত্ব বিভাগের প্রধান জানান, বেশিরভাগ ওয়াজে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গিবাদ ও অসিহষ্ণুতা ছড়ানো হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্মতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাজরিন হুদা বলেন, যে রেফারেন্স তারা ব্যবহার করেন তা মূলত হাদিস। কেন হাদিস? কেন তারা কুরআনের কাছে যান না? কারণ হাদিস সহজে মেনুপুলেট করা যায়। দিনের পর দিন এমনটা চলতে দেয়া যায় না। সরকারের এখানে এন্টারফেয়ার করা উচিৎ।“ 

এরইমধ্যে জঙ্গিদের কাছে জনপ্রিয় বক্তাদের তালিকা তৈরি শুরু হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে উসকানিদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

ডিএমপি'র কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ইতিমধ্যে আমরা তাদের চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছি। যারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাক্য ছড়াবে, যারা এদেশে জঙ্গিবাদকে উষ্কে দেবে তাদের সকলকেই আমরা আইনের আওতায় আনবো।“ 

ওয়াজ মাহফিলের বক্তাদের সম্পদ খতিয়ে দেখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।