সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০২০-০৯-২৮ , ০২:০৬ পিএম
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের হোস্টেলে স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান এবং অর্জুন লস্করকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপির শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন জানান। শুনানি শেষে সিলেট মহানগর হাকিম এর ২ নম্বর আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এসময় আদালতের এজলাসে ধর্ষণ মামলার আসামিদের পক্ষে সিলেট বারের কোনও আইনজীবী দাঁড়ায়নি।
গত ২৫ সেপ্টেম্বরের ওই বর্বরোচিত ঘটনার পর ক্ষোভ, নিন্দা আর ধিক্কারে সরব হয়ে উঠে বিভিন্ন সংগঠন। অবিলম্বে ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের দাবি সবার। বন্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ কর্মীদের থাকতে দেওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, ১২৮ বছরের পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় এক কলঙ্কজনক ইতিহাস সৃষ্টি হলো।
এ নিয়ে এই ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে ৪ জন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আর অপরজন মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি। অজ্ঞাত হিসেবে গ্রেফতারকৃত আসামি রাজন তার এক আত্মীয়ের বাড়িকে পালিয়ে ছিল। আগে গ্রেফতার হওয়া আসামির দেওয়া তথ্যে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে পরে রাত ১টার দিকে রাজন ও তার সহযোগী আইনুলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাদের সিলেট নিয়ে আসা হয়।
এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এ মামলার আরেক আসামি মাহবুবুর রহমান রনিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে রযাহ ব-৯ এর একটি দল। একই সময়ে মামলার অন্যতম আসামি রবিউল হাসানকে নবীগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এছাড়া রোববার সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক খেয়াঘাট এলাকা থেকে দলবেঁধে ধর্ষণ ও অস্ত্র মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর অর্জুন লস্করকে গ্রেফতার করা হয় হবিগঞ্জের মাধবপুরের মনতলা থেকে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিকেলে স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন নববধূ। সন্ধ্যায় তাদের কলেজ থেকে ছাত্রাবাসে ধরে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের ৬-৭ জন নেতাকর্মী। এরপর দুইজনকে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে স্বামীকে আটকে রেখে তার সামনে স্ত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে রাতে ছাত্রাবাস থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশ। ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীকে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় পরের দিন ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকালে ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী বাদি হয়ে সিএমপির শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন- সাইফুর রহমান, মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। এই মামলা এজাহারনামীয় আরো ২ আসামি গ্রেফতার হতে বাকি আছে। তারা হলেন- তারেক আহমেদ ও মাহফুজুর রহমান মাসুম।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.